প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথম একনেক সভায় যা বললেন ড. শামসুল আলম

নিউজ ডেস্কঃ কিছুদিন আগেই টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদ্য সাবেক হওয়া সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

বুধবার (২৮ জুলাই) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা করেছেন তিনি।

সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতেই পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান নতুন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলমকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কাজে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। এতো বড় একটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমি দীর্ঘ ১২ বছর যুক্ত ছিলাম। এখন নতুনভাবে নতুন দায়িত্ব নিয়ে যুক্ত হলাম। আমি যথাযথভাবে এই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, আমি আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সব ধরনের সহযোগিতা করব। আগে যেমন করেছি, এখনও সেভাবেই সহযোগিতা করব।

তিনি আরও বলেন, আমি চেষ্টা করব প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করার। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ যেন দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন হয়।

ড. শামসুল আলম ১৯৫১ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরের বছর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ২০১৫ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্ত ছিলেন। সেখানে কর্মরত অবস্থাতেই ১৯৮৩ সালে ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেল আপন টাইন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

এ ছাড়াও জার্মানির হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডের ভাগিনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস স্কুলে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষকতা করেন ড. শামসুল আলম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষকতাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

শামসুল আলম জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় ২০০২ সালের মার্চ থেকে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পূর্ণকালীন চাকরিও করেছেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশে ১৪ মাস সিনিয়র স্কেলে পূর্ণকালীন জাতীয় কনসালটেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় দৈনিকসমূহে উপ-সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় তিন দশকের অধিক সময় ধরে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী অসংখ্য কলাম লিখেছেন। এছাড়া গবেষণা গ্রন্থ, পাঠ্যপুস্তকসহ অর্থনীতি বিষয়ক তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২টি।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,