জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা
নিউজ ডেস্কঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র জাহিদ হাসান একসময় জড়িয়ে পড়েন জঙ্গি সংগঠন জেএমবিতে। মেধা ও দক্ষতা দিয়ে হয়ে ওঠেন দলের প্রধান বোমা বিশেষজ্ঞ। তারই নির্দেশনায় গত কয়েক বছরে ১০-১২টি পুলিশ বক্সে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় নব্য জেএমবির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দিনগর রাতে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির এই বোমাবিশেষজ্ঞ জাহিদ হাসান ওরফে রাজু ওরফে ইসমাঈল হাসান ওরফে ফোরকানকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
গ্রেফতার বাকি দু’জন হলেন- সাইফুল ইসলাম মারুফ ওরফে বাসিরা ও রুম্মান হোসেন ফাহাদ ওরফে আব্দুল্লাহ।
জানা গেছে, অনলাইনে বিভিন্ন সিক্রেট অ্যাপ ব্যবহার করে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিত ফোরকান। গত কয়েক বছরে ১০-১২টি পুলিশ বক্সে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় নব্য জেএমবির সদস্যরা। বোমাগুলো ছিল একই প্যাটার্নের। যারা বোমাগুলো বানায় তাদের বিভিন্ন সময় অভিযানে গ্রেফতার করা হলেও নতুন করে আবার মেলে একই প্যাটার্নের বোমার খোঁজ। এ ঘটনায় তদন্তে নামে সিটিটিসি।
সর্বশেষ এই ফোরকান ড্রোন বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। ড্রোনের সঙ্গে এক্সপ্লোসিভ যুক্ত করে কোনো জায়গায় আক্রমণের পরিকল্পনার পাশাপাশি নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান নিযুক্ত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পুলিশ বক্সে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গেও সে জড়িত ছিল। আমিরের নির্দেশে যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে সেসব হামলায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে ফোরকান।
২০১৬ সালে অনলাইনে ‘হোয়াইট হাউজের মুফতি’ নামে আইডির মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে নব্য জেএমবির তৎকালীন আমির মুসার হাত ধরে সে এই সংগঠনে যোগদান করে। আমির মুসার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে সংগঠনের ওই সময়ের শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিদের নজরে আসে এবং তাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে কাজ করে।
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তথ্য মতে সর্বশেষ বড় কোনো কেমিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করে সেখান থেকে কেমিক্যাল নিয়ে বড় ধরনের গ্রেনেড বানানোর পরিকল্পনা ছিল। জাহিদ ড্রোন বানাতে সক্ষম, ড্রোনে এক্সপ্লোসিভ যুক্ত করে কোনো জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
তারা নব্য জেএমবিকে পুনর্গঠন করতে সম্প্রতি টঙ্গি এলাকায় বাসা ভাড়া নেয় এবং সংগঠনের তহবিল সমৃদ্ধ করতে ছিনতাইসহ বড় ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

