পানিবন্দী সুন্দরগঞ্জে চরাঞ্চলের ১৮ হাজার মানুষ
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে আকষ্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চরাঞ্চলে এ বন্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে নদী ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে প্রায় চার শতাধিক পরিবার।
এছাড়া বন্যার পানিতে চরাঞ্চলেল শতশত হেক্টর তোষা পাট, আমনের বীজতলা ও আগাম সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত ৫-৬ দিন ধরে টানা ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, চন্ডিপুর, কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, শ্রীপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ১৮ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। এসব এলাকার মানুষের বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়া তারা বন্যা নিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান, প্রবল বর্ষণ ও বন্যার পানিতে বাদামের চর, ভাটি কাপাসিয়া, পূর্ব লালচামার, পশ্চিম লালচামার, উজান বুড়াইল, ভাটি বুড়াইল এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঁঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত চার শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন এই ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার মানুষ।
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ৩ হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় জীবন-যাপন করতে গিয়ে দূর্ভোগে পড়েছেন। এ পর্যন্ত পানি বন্দি মানুষ জনকে সরকারিভাবে কোন সহায়তা দেয়া হয়নি।
এছাড়া হরিপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার, বেলকা ইউনিয়নের ৩ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল আলম জানান, পানি বন্দি মানুষের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

