শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের শিল্পকলার নান্দনিকতার পুরধা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ (২৯ ডিসেম্বর)। এ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকাল ৪টায় আয়োজন করা হয়েছে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।
এ ছাড়া শিল্পাচার্যের জন্মবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বছরব্যাপী শিশু চিত্রাংকন কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিশুশিল্পীদের সনদপত্র বিতরণ এবং শিশুদের অঙ্কিত চিত্রকর্মের ১০ দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ৯টায় শিল্পাচার্যের সমাধিতে একাডেমির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তমিজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিণী। পড়াশোনার হাতেখড়ি পরিবারের কাছ থেকেই। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকা পছন্দ করতেন।
মাত্র ষোল বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি বন্ধুদের সাথে কলকাতায় যান শুধুমাত্র কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য। পরে ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখা বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে ভর্তি হন। তিনি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এ স্কুলে পড়েন। এ বছরই কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্র ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে আঁকা ছবি। এ চিত্রের জন্য সারা বিশ্বে তিনি খ্যাত হয়েছেন। তার অন্যান্য বিখ্যাত চিত্র কর্মগুলো হলো নৌকা, সংগ্রাম, নবান্ন, মনপুরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইত্যাদি।
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে তার শিল্পীমানস গড়ে ওঠে। তিনি বাঙালির শিল্পকলার ঐতিহ্য নির্মাণ ও আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃত ব্যক্তিত্ব। অসাধারণ নেতৃত্বগুণে ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গড়ে তুলেছিলেন চারুকলা ইন্সটিটিউট। তিনি ছিলেন চারুকলা ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। সে সময় তার যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আজ চিত্রকলায় এক অনন্য অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
শিল্পাচার্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫ সালে ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে এই মহান চিত্রশিল্পী মৃত্যুবরণ করেন।


