২২ জানুয়ারি থেকে সাগরদাঁড়িতে শুরু হচ্ছে মধুমেলা

যশোর সংবাদদাতা:
ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর ৯২তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে কবির জন্মস্থান কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা।

এ মধুমেলা উদযাপন উপলক্ষে এক পর্যালোচনা সভা মঙ্গলবার সকালে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জন্ম জয়ন্তী ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ আরও অনেকে।

জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, মেলায় জুয়া অশ্লীলতা চলবে না। মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে মেলা উপভোগ করতে পারে তার জন্যে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরীক্ষার কারণে মধুমেলা ৩ দিন এগিয়ে ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হবে। চলবে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলার ভেতর ২৫ জানুয়ারি মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাট্যকার হিসেবেই প্রথম বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পণ করেন। রামনারায়ণ তর্করত্ন বিরচিত ‘রত্নবলী’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব বোধ করেন। এই অভাব পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নাটক লেখায় আগ্রহী হয়েছিলেন। ১৮৫৯ খৃস্টাব্দে তিনি রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক।

modhu_mela3

ফাইল ছবি

১৮৬০ খৃস্টাব্দে তিনি রচনা করেন দুটি প্রহসন, যথা: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং পূর্ণাঙ্গ ‘পদ্মাবতী’ নাটক। পদ্মাবতী নাটকেই তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। ১৮৬০ খৃস্টাব্দেই তিনি অমিত্রাক্ষরে লেখেন ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য। এরপর একে একে রচিত হয় ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ (১৮৬১) নামে মহাকাব্য, ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬১), ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক (১৮৬১), ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬২), চতুর্দশপদী কবিতা (১৮৬৬)।

  •  
  •  
  •  
  •