জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির আবেদনের বিস্তারিত

স্কলারশিপ ডেস্কঃ

জার্মানি এবং জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়তে যাওয়া বাংলাদেশের অনেক অনেক শিক্ষার্থীদেরই স্বপ্ন। কিন্তু প্রশ্ন হলোঃ
-আবেদন করবো কিভাবে?
-এজেন্সির মাধম্যে করবো নাকি নিজে করবো?
এরকম হাজারো ভাবনার উত্তর নিয়ে আজকের পোস্ট।
আবেদন করা কঠিন কিছু না। কিন্তু দালালের পাল্লায় পরলে বিদেশে পড়াশুনার সপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়। চলুন আর কথা না বারিয়ে ধাপে ধাপে জার্মানিতে আবেদনের A TO Z প্রক্রিয়াসমূহ বর্ননা করা যাকঃ

১। প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো বা রিকয়ারমেন্ট অর্জন করাঃ

ইউনিভার্সিটির প্রথম চাহিদা বা চাওয়া হচ্ছেঃ

পূর্বের অ্যাকাডেমিক রেকর্ডস।
সিজিপিএঃ ব্যাচেলরের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাস্টার্সের জন্য ব্যাচেলরের সিজিপিএ। বাংলাদেশি মাপকাঠি অনুযায়ী সিজিপিএ ৩.০০ বা ৩+ থাকা ভাল। তবে ২.৫ নিয়েও চাঞ্চ পাওয়া সম্ভব।
আই.ই.এল.টি.এসঃ জার্মানিতে ইংরেজি ভার্সনে পড়তে চাইলে IELTS আবশ্যক। ৫.৫ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে স্কোর ইউনিভার্সিটি চেয়ে থাকে।
জার্মান ভাষাঃ আপনি যদি জার্মান ভার্সনে পড়তে চান, তবে আপনার বি-১ অথবা বি-২ এর সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

২। ইউনিভার্সিটি খোঁজাঃ
এটি নির্ভর করে আপনার পূর্বের অ্যাকাডেমিক রেকর্ডস এর উপরে। আপনার সিজিপিএ এবং আই.ই.এল.টি.এস স্কোর যদি অনেক ভাল থাকে তবে অনেক প্যারামিটার দেখে ভার্সিটি খুঁজতে পারেন। আর অল্পের মধ্যে খুশি থাকা উচিত যদি আপনার সিজিপিএ এবং আই.ই.এল.টি.এস স্কোর কম থাকে।

ভার্সিটি খোজার উৎসঃ DAAD International Programs

৩। বিষয় নির্বাচনঃ
সাবজেক্ট অনেক গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। দেখতে হবে আপনার নির্বাচিত সাবজেক্টটি কতটা ইন্ডাস্ট্রি অরিয়েন্টেড। উদাহরন দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে; কম্পিউটার ইঞ্জিণিয়ারিং এর কিছু কোর্স আছে, যেটিতে নির্দিষ্ট তেমন কোন ফোকাস নেই। কিছু আছে কম্পিউটার সাইন্সের সাইবার সিকিউরিট নিয়ে। সাইবার সিকিউরিটি একটি নির্দিষ্ট ফিল্ড। জব মার্কেটে এখন নিশ্চয়ই সাইবার সিকিউরিটির ডিমান্ড বেশি থাকবে।

৪। পার্ট টাইম জবঃ
প্রায় সকল শিক্ষার্থীরাই পার্ট-টাইম জব করতে চান। পার্ট-টাইম জব পাওয়ার ও করার ক্ষেত্রে শহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। ভালো শহর ভালে ভালো খরচ। আর বড় শহর মানে বেশি পার্ট-টাইম জব। তাই, বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

৫। আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসঃ
সাধারণত ২ পদ্ধতিতে জার্মান ভার্সিটি আবেদন করতে হয়।

ইউনিঅ্যাসিস্ট।
সরাসরি ভার্সিটির অয়েব সাইট।

জার্মান সব কোর্সের আবেদন এক রকম হয় না। ভার্সিটির চাহিদা কোর্স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যেমনঃ

কোন ভার্সিটি লেটার অব মোটিভেশন চাইতে পারে।
কেউ লেটার অব রেকমেন্ডশন।
অথবা ডকুনেন্টস সরাসরি অ্যাম্বাসি থেকে সার্টিফাই করতে বলবে।
কিছু ইউনিভার্সিটি নোটারি বা কোন সার্টিফিকেট চাইবে না।
ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইট থেকে অথবা কোর্স-কোঅর্ডিনেটরকে ইমেইল করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এর তালিকা জেনে নিতে হবে।

৬। আবেদন সম্পন্ন করাঃ

ইউনিঅ্যাসিস্ট পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে আগে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। ভার্সিটির ওয়েব সাইটে দরকারি কোর্সের নাম ম্যাচ করে এবং প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টসের সফট কপি আপলোড করতে হয়। আপনার আবেদন তখনই নিশ্চিত হবে, যখন আপনি পেমেন্ট ও প্রয়োজনীয় হার্ড-কপি ডকুমেন্টস পাঠিয়ে দিবেন।
হার্ডকপি অবশ্যই পাঠাতে হবে। ২০দিনের বেশি সময় হাতে থাকলে হার্ডকপি সরকারি ডাকেই পাঠানো ভালো, মাত্র ২০০টাকার মত খরচ হয়, সময় লাগে ৭-১৫দিন। জার্মান এম্বাসিতে গিয়ে ফ্রি এটেস্টেড করানো যায়, তবে হাতে ৭ দিন সময় নিয়ে সেটা করাটা ভালো। জার্মানিতে আবেদনের A TO Z সম্পর্কে চলুন আরও বিস্তারিত জানি!

৭। অফার লেটারঃ
অফার লেটার বা অ্যাডমিশন লেটার সাধারণত অ্যাডমিশন পাবার পরে ইমেলের মাধ্যমে জানানো হয়। সেই ইমেলে অ্যাটাচমেন্টস হিসাবে সফট-কপি অথবা স্কান-কপি অফার লেটার পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি এক কপি কুরিয়ার করেও পাঠানো হয়।

৮। বাসস্থান অনুসন্ধানঃ

জার্মান ভাষায় “ স্টুডেন্টভার্খ” হচ্ছে স্টুডেন্ট হোস্টেল। স্টুডেন্ট হোস্টেল খুঁজতে পারেন। তাছাড়া সব সহরেই প্রাইভেট হাউজিং এবং শেয়ারড্ অ্যাপার্টমেন্ট “ভিগে” পাওয়া যায়।

৯। ব্লক- অ্যাকাউন্টঃ
অ্যাকমোডেশন খরচ বাবদ জার্মানিতে মাসে ৭২০ ইউরো হিসাবে প্রায় ৮-৯ হাজার ইউরো নিয়ে ব্লক-অ্যাকাউন্ট তৈরী করতে হয়। ব্লক- অ্যাকাউন্ট ২ টি ব্যাংকের মাধ্যমে করা যায়, ফিনটিবা অথবা ডয়েচ ব্যাংক।
ফিনটিবার অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রসেস অনেক দ্রুত কিন্তু ডয়েচ ব্যাংক তার তুলনায় ধীর গতির।

১০। ভিসাঃ

ডেট বুকিং: অ্যাডমিশন লেটার হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিসার জন্য বুকিং দিতে হবে। আপনি চাইলে লেটার হাতে আসার আগেও করতে পারেন। অনেক সময় ভিসার ডেট নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়। যা থেকে বাঁচতে আগে বুকিং এর উত্তম কোন পথ নেই।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস্ঃ ভিসার জন্য যেসকল ডকুমেন্টস্ লাগবে…

পাসপোর্ট।
ছবি।
ভিসা ফরম।
ব্লচক-মানি ডিপোজিট।
ট্রাভেল ইন্সুরেন্স।
অ্যাকাডেমিক ডকুমেন্টস্।

ভিসা প্রাপ্তির সময়কালঃ স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং-এ সাধারণত ২০-৩০ দিন সময় লাগে। বিশেষ ক্ষেত্রে আরো কম বা বেশি সময় লাগতে পারে। ব্যাচেলর স্টুডেন্টদের জন্য ২-৩ গুণ বেশি সময় লাগতে পারে।

১১। প্রবাস যাত্রাঃ
এই ধাপে আপনার “Study in German” সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সপ্নটি সফল হতে যাচ্ছে। ভিসা রেডি, এখন শুধু উড়াল দেওয়ার পালা। প্লেনের টিকেট আগে কিনতে পারলে কিছু কম খরচে সম্ভব হতে পারে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •