কৃষিজমির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে ই-ভিলেজ মেশিন

নিউজ ডেস্কঃ

ফসলের জমিতে কী পরিণাম সার, পানি ও কীটনাশকের প্রয়োজন হবে তা জানা যাবে ই-ভিলেজ অ্যাপ ও মেশিনের মাধ্যমে। এছাড়া মাটির আর্দ্রতা, পাতার শুষ্কতা, বাতাসের আর্দ্রতা ও সূর্যের আলোর তীব্রতাও বোঝা যাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসানের নেতৃত্বে এই অ্যাপ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

চার দিনবব্যাপী চলমান ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭ মেলার শেষ দিনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রযুক্তি মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শনীতে এই উদ্ভাবন দেখা যায়।

ই-ভিলেজ মেশিনে তারের মাধ্যমে মাটির আদ্রতা ও কি কি দরকার হবে মাটির উর্বরতা বাড়াতে এ সম্পর্কে তথ্য চলে যাবে। ফসলের পাতার কি অবস্থা তা জানা যাবে অন্য একটি তার পাতায় ছোঁয়ালে। এছাড়া মেশিনের গায়ে লাগানো আছে সূর্যর তাপমাত্র ও বাতাসের আদ্রতা বোঝার পদ্ধতি।

অ্যাপ ও মেশিন সম্পর্কে জানান স্টলে উপস্থিত থাকা সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবদুল মতিন। তিনি বলেন, ই-ভিলেজে মোট পাঁচটি সেন্সর রয়েছে। যেগুলো পরিমাপ করবে মাটির আর্দ্রতা, পাতার শুষ্কতা, বাতাসের আর্দ্রতা, বাতাসের তাপমাত্রা ও সূর্যের আলোর তীব্রতা। যন্ত্রটি যে কোনো স্মার্টফোনের সাথে ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযোগ করতে হবে।

তিনি জানান, স্মার্টফোনে ই-ভিলেজ নামে একটা অ্যাপ থাকবে এবং অ্যাপে মাঠ পরিচিতি বলে একটা অপশন থাকবে। সেখানে ফসলি জমির মাটির আদ্রতা, পাতার শুষ্কতাসহ অন্য তিনটি বিষয় পরিমাপ করা যাবে আলাদাভাবে। আবার সবগুলো একসঙ্গেও করা যাবে। তারপর এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।

মতিন আরও জানান, যোগাযোগ নামের একটা অপশন রয়েছে। সেখান থেকে কৃষক কি জানতে চান তা উল্লেখ করে ক্লিক করলে সেই তথ্য মূল সার্ভারে চলে যাবে। সার্ভার থেকে কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হবে।

এই অ্যাপ ব্যবহারের করলে একদিকে উৎপাদন বাড়বে। অপরদিকে সার-কীটনাশক-পানির অপচয় রোধ হবে এবং জমির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ভালো থাকবে এমনটা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুভীয়া ইসলাম।

তিনি জানান, গাজীপুরের পাটুলিয়া গ্রামে ১৫ জন কৃষকের ওপর এই নিরীক্ষা চালানো হয়। দুই মৌসুমে তাদের ফসলের নানা দিক জানানোর কাজে অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই মোতাবেক কৃষক জমির যন্ত্র নেওয়ায় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি খরচ কমেছে।

সুভীয়া আরও জানান, আগামীতে এই প্রকল্প সারাদেশের ১০ হাজার কৃষকের ওপর প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদি সফলতা পাওয়া যায়, তাহলে একটা সেন্টারের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হবে বিনামূল্যে।

এই প্রযুক্তি বর্তমানে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে রয়েছে। এখানে সহযোগিতা করছে সেন্টার ফর রিসার্চ (সিআরআই)। এছাড়া অর্থায়ন দিচ্ছে চীনা দূতাবাস।

 

  •  
  •  
  •  
  •