বাকৃবিতে ’পোল্ট্রি বর্জ্যের মানোন্নয়ন ও পরিবেশ দূষণ রোধ’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোল্ট্রি বর্জ্যের মানোন্নয়ন ও পরিবেশ দূষণ রোধ’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের সভা কক্ষে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান এবং সহযোগী গবেষক পশু বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন সুমন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, গবেষণার মাধ্যমে যে পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি হবে তা দিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এটি একটি সময়োপযুগী গবেষণা বলেও জানা তিনি।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, এটি একটি নতুন গবেষণা যার মাধ্যমে পোল্ট্রি বর্জ্য থেকে যে জৈব সার তৈরি হবে তা ধীরে ধীরে ফসলে নাইট্রোজেন সরবরাহের মাধ্যমে সারের অপচয় রোধের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে আনবে।
এসময় পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুক্তা খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু হাদী নূর আলী খান, ময়মনসিংহ ডিভিশনের পরিবেশ বিভাগের পরিচালক ফরিদ আহমেদ, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. মো. মেহেদী হাসান, প্লান্ট এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ হাবিবুল হক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, “এই প্রকল্প মুরগির বিষ্ঠাকে সঠিক কাজে লাগাবে। মুরগির বিষ্ঠা মূলত মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়। মুরগির বিষ্ঠায় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া যেমন- সালমোনেলা, ই. কোলাই বহন করে যা মানুষ ও অন্যান্য পশুপাখিকে আক্রান্ত করে। এছাড়াও মুরগির বিষ্ঠায় বিভিন্ন ভারী ধাতু, অ্যান্টিবয়োটিক ও ক্ষতিকারক পদার্থ থাকতে পারে যা খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের নানা রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু এই ক্ষতিকর জীবানুই নয় এসব ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবয়োটিক যাতে পরিবেশে প্রবেশ করতে না পারে তাও নিশ্চিত হবে। এছাড়া গুণগতমানসম্পন্ন কম্পোস্ট মাঠ পর্যায়ে ভাল ফলন আনবে বলে আশাবাদী তিনি।”
পশুপালন অনুষদের ডীন এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রয়লার ও লেয়ার লিটার থেকে গুণগতমানসম্পন্ন কম্পোস্ট উৎপাদন এবং মাঠ পযায়ে এর প্রয়োগে পোল্ট্রি সেক্টরে দুষণজনিত সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”
প্রধান গবেষণা পরিচালক তার বক্তব্যে বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুণগতমান সম্পন্ন কম্পোস্ট (জৈব সার) তৈরি এবং মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। স্ট্রুভাইট ক্রিস্টালাইজেশন প্রক্রিয়ায় পোল্ট্রির বর্জ্যে যে এমোনিয়া ও ফসফরাস রয়েছে সেগুলোর সংমিশ্রনে এমন ধরণের জৈবসার তৈরি হবে যা পরিবেশবান্ধব হিসেবে দীর্ঘদিন ফসলে ব্যবহার করা যাবে।

