উন্নয়নে কাজ করছে হাবিপ্রবির এক ঝাঁক প্রাণিবিজ্ঞানী

কৃষিবিদ শাহীন আলম:
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে প্রাণিসম্পদ। পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে এ সেক্টরের উৎপাদিত দুধ, ডিম ও মাংস। সাম্প্রতিক সময়ে প্রানিজ আমিষের উৎপাদন বাড়লেও জনসংখ্যার তুলনায় তা নিতান্তই কম। প্রানিসম্পদ উন্নয়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা সহায়তার মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক প্রানিবিজ্ঞানী গঠন করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর লাইভস্টোক ওয়েলফেয়ার এন্ড রিসার্চ নামক সংগঠন। স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়নমূলক এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয় ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের অধ্যাপক ডা. এস.এম. হারুন-উর-রশীদের অকৃত্রিম উদ্যোগে। অনুষদের প্যাথলজি ল্যাবে গত বছর একটি আলোচনা সভায় শুরু হওয়া এ সোসাইটি দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পন করেছে।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক ড. গাফ্ফার মিঞার পরের নেতৃত্বে এসেছেন ডা. হারুন ও ড. খালেদ। তাঁদের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচেছ আরোও প্রায় ৪৫ জন প্রানিবিজ্ঞানী। স্বল্প পথচলায় সোসাইটির উল্লেখ্যযোগ্য কর্মসূচীসমূহ তুলে ধরা হবে অর্থবহ। গবাদিপশু ও ছাগলের সঠিক সংখ্যা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে সর্বপ্রথম চালানো হয় গবাদিপশুর শুমারী। দীর্ঘ এক মাস শুমারির পর কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী কর্ণাই স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয় গবাদিপশু ও ছাগলের অ্যানথ্রাক্স, গলাফুলা, বাদলা ও পিপিআর রোগের ফ্রি ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা ক্যাম্প। প্রায় পাঁচ শতাধিক গরু ও ছাগলের টিকা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। পরের মাসেই মহাদেবপুর মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আবারোও উপরোক্ত রোগের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচী হাতে নেয় সোসাইটি। চার শতাধিক গরু ও ছাগলের সেবায় যোগ হয় নতুন মাত্রা। গেল শীতে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ হিসেবে শতাধিক গবাদিপশুর জন্য সোসাইটির পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় কর্ণাই গ্রামের গরীব কৃষকদের মাঝে। প্রথম বার্ষিক সায়েন্টিফিক কনফারেন্সের সফল আয়োজন যোগ করে আরোও একটি নতুন দিগন্ত। বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষ্যে গত মাসে দিনাজপুর শহরের নিকটবর্তী রাজবাটীতে দুই শতাধিক ছাগলের দূরারোগ্য পিপিআর রোগের ফ্রি ভ্যাকসিন প্রদান করে সদস্যরা। এছাড়াও প্রতি মাসে সদস্যদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সভা এবং উদ্যোক্তা, খামারী, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিয়মিত মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেবাগ্রহনকারী কর্ণাই গ্রামের কৃষক সফর আলী বলেন, স্বেচ্ছায় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবার মত মহৎ কাজ হয় না। রাজবাটীর আরেক কৃষক গনি মিয়া বলেন, আমি জানতামই না যে ছাগলের টিকা দিতে হয়।
এ সোসাইটির মাধ্যমে সচেতনতার পাশাপাশি ফ্রি সেবা পেয়ে খুব ভাল লাগছে। সোসাইটির সভাপতি ডা. হারুন বলেন, ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকার ছাগলগুলো যেন পিপিআর মুক্ত থাকে সেজন্য মেগাকর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে গবেষনার ফলাফল প্রকাশে সায়েন্টিফিক জার্নাল প্রকাশের কাজ।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: