মাতৃদুগ্ধ পানের হারে দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাতৃদুগ্ধ পানের হারে দ্বিতীয় ধাপে বয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে ছিল তৃতীয় ধাপে। ২০১৫ সালে ১২৩ স্কোর অর্জন করে দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ পানের হারের প্রবণতা ২০১৫-এর অবহিতকরণ সেমিনারে তিনি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
ইন্টারন্যাশনাল বডি বুড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন এ প্রতিবেদন তৈরি করে। সংস্থাটি বিশ্বের ১০০টি দেশে শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে নীতি ও কার্যক্রমের পর্যালোচনা করে আসছে।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামীতে সবার সম্মিলিত ”েষ্টায় প্রথম ধাপে পৌঁছে যাব। ১৫টি সূচকের মধ্যে যে ১২ সূচকে অগ্রগতি হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা উন্নত দেশকে আলিঙ্গনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। জাতিকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করতে হলে পুষ্টিতে ভরপুর হতে হবে। যার বড় একটি অংশ আসে মাতুদুগ্ধ পানের মাধ্যমে। আশা করি, এই প্রচেষ্টা আরো বেগবান হবে।’
বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের। সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টি সেবার পরিচালক ডা. মো. কামরুল ইসলাম।
সেমিনারে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. এস কে রায়।
সেমিনারে বলা হয়, মাতৃদুগ্ধ পানের হারকে চার ধাপে ভাগ করা হয়। শূন্য থেকে ৪৫ দশমিক ৫ হলো সবচেয়ে খারাপ অর্থাৎ চতুর্থ ধাপ। এটাকে লাল দিয়ে শনাক্ত করা হয়। এরপর ৪৬ থেকে ৯০ দশমিক হচ্ছে তৃতীয় ধাপ। এটাকে হলুদ রং দিয়ে শনাক্ত করা হয়। দ্বিতীয় ধাপ ধরা হয় ৯১ থেকে ১৩৫ পর্যন্ত। এটাকে নীল রং দিয়ে শনাক্ত করা হয়। আর প্রথম ধাপ হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ পর্যন্ত। এটাকে সবুজ রং দিয়ে শনাক্ত করা হয়। মাতৃদুগ্ধ পানের হারের প্রবণতা এখন ১০০টির বেশি দেশে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০০৫ সালে মাতৃদুগ্ধ পানের হারের প্রবণতায় বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় ধাপে (৯০.৫, হলুদ)। ২০০৮ সালে অবনতি হয়ে নামে ৮৭-তে। ২০১২ সালে ১০৭ দশমিক ৫ নম্বর অর্জন করে (নীল রং) এবং ২০১৫ সালে ১২৩ নম্বর অর্জন করে (নীল রং)।

