ঝিনাইদহে কুমড়োর বড়িতে হাজারো নারীর স্বচ্ছলতা

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
কুমড়োর বড়ি বাংলার মানুষের কাছে এতই জনপ্রিয় যে ঝিনাইদহের হাজারো নারী ও পরিবার এই কুমড়োর বড়ি বণিজ্যিকভাবে তৈরী করে বাজারজাত করে স্বাবলম্বী হয়েছে। বর্তমান সময়ে কর্মব্যস্ত মায়েরা আর আগের মত নিজের প্রয়োজনে বা আত্মীয়-স্বজনকে দেয়ার জন্য নিজ হাতে বড়ি তৈরি করেন না। কিন্তু যেহেতেু দিনদিন এর চাহিদা বাড়ছে তাই ঝিনাইদহের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে কুমড়োর বড়ি বানানো যেমন বাড়ছে ঠিক তেমনি স্বাবলম্বী হচ্ছে হাজারো নারী ও তাদের পরিবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার কিছু মানুষ স্বল্প পুঁজি ব্যবহার করে বছরের প্রায় ৩/৪ মাস ধরে বড়ি বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের তৈরি এই বড়ি স্থানীয় বাজার সহ ঢাকা এবং খুলনা অঞ্চলে সুনামের সাথে বিক্রি হচ্ছে। বড়ি এখন হাটে বাজারে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হতে দেখা যায়। আর সেখান থেকেই শীতের এই আকর্ষণীয় মুখোরোচক কুমড়োর বড়ি কিনে রান্নায় ব্যবহার করছে বাড়ির গ্রীহিনিরা।

JKB4শৈলকুপা উপজেলা গাড়াগঞ্জ গ্রামের বড়ি তৈরির কারিগর রমজান শাহ’র সাথে কথা বলে জানা যায়, শুরু করেন দিন মজুরের কাজদিয়ে। কয়েক বছর আগের কথা-কোন এক শীতকালে বাড়ির জন্য তৈরি করা কিছু কুমড়োর বড়ি অভাবের কারনে বাজারে নিয়ে যান তিনি এবং তা ভালো দামে বিক্রি হয়। তখনই যেন সে অন্ধকারে আলোর দেখা পেল।

তিনি জানান, বর্তমানে তার চাতালে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ কেজি বড়ি তৈরি হয়। যা সে প্রতি কেজি ১৫০ দরে বিক্রয় করে থাকেন। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি কেজি তার লাভ হয় ১০-১৫ টাকা। বড়ি ব্যবসা লাভজনক হলেও মেঘলা বা ঘন কুয়াশার কারণে বড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে এর কারিগররা অনেক সময় ক্ষতির সম্মূক্ষিন হয়।

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহে বিভিন্ন গ্রামের হাজারো পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে শুধুমাত্র বড়ি বিক্রি করে।

আবু জাফর ওবাইদুল্লাহ কোন এক মাকে কবিতায় লিখেছেন-
”কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি?”

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: