একজন জয়ীতা নারী রাজিয়া বেগম
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
‘রাজিয়া বেগমের জন্ম ১৯৭২ সালে শুকুর আলী বিশ্বাসের ঘরে। অভাবী পিতার সংসারে কোন রকমে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ না হতেই মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয় আমার সঙ্গে। আমি তখন বেকার। ২ বছল পর ১ম সন্তান জন্ম নেয়। অভাবের সংসারে আরেকটি মুখ যোগ হয়। মাত্র ১৩/১৪ বছর বয়সে সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায়ই তাদেরকে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হতো” এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি জানলেন স্বামী আব্দুল ওয়াদুদ।
রাজিয়া বেগম জানালেন, শ্বশুরের ভিটেয় থেকে তিনি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে যোগ দেন। সেখান থেকে হাঁস- মুরগী, গরু- ছাগল পালন সহ কৃষি প্রশিক্ষণ নেন। এরপর মৌমাছি পালন, অর্গানিক সব্জি চাষ, মাছ চাষ ইত্যাদি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। বাড়ির আঙ্গিনায় আন্তঃ ফসল চাষ করার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি একজন সফল ষ্ট্রবেরী চাষী। নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গিয়ে গ্রামের আরও হতদরিদ্র নারীদের সংগে পরিচিত হন। পরবর্তীতে তাদেরকে নিয়ে গড়ে তোলেন জুঁই সমিতি। একটু একটু করে পাল্টাতে থাকে তার জীবন। অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতির দিকে যেতে থাকে।
এক প্রতিবেশী জানান, অন্যের বাড়িতে কাজ করে, অন্যের সাহায্য নিয়ে যে রাজিয়া জীবন চালাতেন আজকে তিনি অন্য নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছেন।
রাজিয়া আরও জানান, একদিন থাকার জায়গা ছিল না, খাবারের নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু একক প্রচেষ্টায় তার বর্তমানে ৬ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিতে “জৈব কৃষি”র আবাদ করছেন। ৩ সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। ৩ রুমবিশিষ্ট পাকা বসতবাড়ি তৈরী করে সবাইকে নিয়ে তিনি এখন স্বাবলম্বী।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হিসাবে ‘শ্রেষ্ঠ জয়ীতা’র পুরস্কারও পেয়েছেন ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়ায় বর্তমানে বসবাসরত এই নারী।

