মামুনুলকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হেফাজত নেতারা

mamun

নিউজ ডেস্কঃ হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডের পর গত রোববার হাটহাজারী মাদ্রাসায় জরুরি বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। বৈঠকে মামুনুল হকের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি স্বীকার করে হতাশা ব্যক্ত করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

তাকে বহিষ্কারের প্রস্তাবও করেছিল একটি অংশ। তবে সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। গ্রেফতার হওয়া হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া হেফাজতের সাম্প্রতিক তাণ্ডবে জামায়াত-শিবিরসহ জঙ্গিদের সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

রোববার (১১ এপ্রিল) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে হেফাজতের সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী, সাবেক প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফ উল্লাহকে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, মামুনুলের বিষয়ে হেফাজত হতাশ। তবে হেফাজতের সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত। শুধু হেফাজত নয়, সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতসহ জঙ্গিদেরও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

উল্লেখ্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ২৬ মার্চে এবং তার পর কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের কর্মসূচি থেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয় এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেই সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেন এবং ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় লিপ্ত হন।

হেফাজতের নেতাকর্মীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। রেললাইন, রেলস্টেশন, ভূমি অফিসসহ সরকারি বিভিন্ন অফিস, থানায় হামলা ও অস্ত্র লুট, ইউএনও অফিস, আওয়ামী লীগ অফিস, বাড়িঘর কোনো কিছুই হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ থেকে বাদ পড়েনি।

  •  
  •  
  •  
  •