নবজাতকের পিতৃপরিচয় শনাক্তে সিআইডি

নিউজ ডেস্ক:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এক নারী তার বিয়ের বৈধতা ও গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় শনাক্তের দাবিতে আদালতে মামলা করেছেন। সিআইডিকে এটির তদন্ত দিয়েছেন আদালত।

ভুক্তভোগী পিয়ারা খাতুন (৩২) শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা গ্রামের মৃত সোরমান মন্ডলের মেয়ে।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) ওই নারী সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এ অবস্থায় গর্ভবতী মায়ের দায়িত্ব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করে সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কয়েক বছর আগে চৌহালী উপজেলার জিদপুরে গ্রামে পিয়ারা খাতুনের প্রথম বিয়ে হয়। কিছুদিন পরই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পিয়ারা খাতুন মায়ের বাড়িতে বসবাস করতে থাকে। এ অবস্থায় একই গ্রামের হাফিজুল ইসলাম মোবাইলে পিয়ারার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বছর খানেক আগে চৌহালীর উপজেলার খাসকাউলিয়া কাজি অফিসের গিয়ে বিয়েও করেন তারা। এরপর ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে পিয়ারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সন্তান প্রসবের জন্য তাকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই বেঁকে বসে হাফিজুল। বিয়ে ও গর্ভের সন্তান সবকিছুই অস্বীকার করতে থাকে সে।

উপায়ন্ত না দেখে পিয়ারা কাবিননামা খুঁজতে খাসকাউলিয়া সেই রিপন কাজির কাছে যায়। কিন্তু কাজিও বিয়ের বিষয় অস্বীকার করেন। এ অবস্থায় চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শাহজাদপুর আদালতে বিয়ে ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে এবং বিয়ের নামে প্রতারণায় সহযোগিতা করায় হাফিজুল, কাজি রিপন ও বিয়ের সময়ের সাক্ষী মিলে মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন পিয়ারা খাতুন।
আদালতের নির্দেশে অনুসন্ধানে নামে সিরাজগঞ্জ সিআইডি। এ অবস্থায় সোমবার (২০ ডিসেম্বর) প্রসব ব্যথা উঠলে জামিরতার নিজ বাড়ি থেকে পিয়ারাকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে এনে সন্তান প্রসবের ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে সিআইডি। নবজাতককে দেখতে হাসপাতালেও যান সিআইডি পুলিশ সুপার কামাল হোসেন। এসময় তিনি নবজাতককে উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। বর্তমানে মা ও মেয়ে সুস্থ রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সিআইডির পুলিশ সুপার কামাল হোসেন জানান, “নবজাতকের পিতৃত্বের পরিচয় সঠিকভাবে নিরূপণের জন্য সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলছে।” মামলার সঠিক তদন্ত ও শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে অসহায় মা ও শিশুটির পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেন এই কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •