বাঁশির সুরে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি উড়ে এসে বসে মাহাতাবের গায়ে

mahatab

নিউজ ডেস্কঃ যশোরের কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামে মাহাতাবের বাড়ি। তার বাঁশির সুরে ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে আসে মৌমাছি। উড়ে এসে বসে তার গায়ে।

ছোটবেলা থেকেই মৌচাক থেকে মধু আহরণ করতে শুরু করেন মাহাতাব। ওই সময় বালতিতে শব্দ করে চাক থেকে মৌমাছি দূরে সরিয়ে দেওয়ার কৌশলও রপ্ত করেন তিনি। এরপর টিনের থালায় শব্দ শুনে মৌমাছি চাক ছেড়ে তার কাছে আসতে শুরু করে। কাছে আসার এমন দৃশ্য থেকে মধু সংগ্রহকারী এ পতঙ্গের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মায়।

এ বিষয়ে মাহাতাব মোড়ল বলেন, বাবার বাড়ি ছিলো সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রা উপজেলায়। সুন্দরবনসহ সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে তিনি ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। মধুর মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে যেয়ে মৌমাছির প্রতি তার ভালোবাসা জন্মায়। বাড়ির পাশেই একটি মৌমাছির মৌচাক রয়েছে। বাঁশি বাজালে শুরু করলে বাঁশির সুরে হাজারও মৌমাছি এসে বসে।

মৌমাছি বসতে বসতে শরীর তার মৌচাকের আকার ধারণ করে। কৌশলগত ওই সুর শুনে এখন হাজারও মৌমাছি তার শরীরে জড়ো হয়। বাঁশি বাজানো বন্ধ করলে মৌমাছি চলে যায়। মৌমাছি শরীরে কামড় দেয় কিনা জানতে চাইলে মাহাতাব বলেন, এর জন্য শরীরকে আগে থেকেই প্রস্তুত করতে হয়। তাদের আঘাত না করলে একটি মৌমাছিও শরীরে হুল বসায় না।

মাহাতাবের মতে মৌমাছি হিংস্রতা দেখালেও তার কাছে মৌমাছির হিংস্র আচরণ কখনই চোখে পড়েনি। ভালোবাসায় সব হিংস্রতা জয় করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ১ বছর ধরে মৌমাছির সঙ্গে কৌশলগত সখ্যতা থাকলেও মৌমাছির সঙ্গে গভীর প্রেম সেই ছোটবেলা থেকেই। এটি কেবল মৌমাছির প্রতি ভালোবাসা থেকেই করা সম্ভব হয়েছে। এতে কোনো অসৎ উপায় ও তন্ত্র-মন্ত্র নেই।

বাড়িতে বাঁশি বাজিয়ে পাঁচ মিনিটেই তিনি শরীরে হাজারও মৌমাছি জড়ো করতে পারেন। কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় কোনো ভয় লাগে না বলেও জানান তিনি।

যশোর সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নার্গিস শিরীন বলেন, মৌমাছিদের মধ্যে নিজস্ব ভাষা আছে। তারা ঐ ভাষাতেই একে ওপরের সঙ্গে কথা বলে। তবে, বাঁশির সুরে মৌমাছি আকৃষ্ট হয় এটা আমার জানা নেই। এই পর্যন্ত আমার বই পুস্তকে এটা পায়নি। বাঁশির সুরে মৌমাছি আকৃষ্ট হয়ে মানুষের গায়ে উড়ে এসে বসে এটার সুযোগ নেই। তবে, মৌমাছিরা তো মধুর ওপর আকৃষ্ট হয়, তাই কেউ যদি তার শরীরে মধু, হরমোনযুক্ত সেন্ট (সুগন্ধি) স্প্রে করে, তখন উড়ে এসে মৌমাছিরা বসতে পারে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •