পশু খাদ্য সংকটে টেংরাগিরি ইকোপার্ক

বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি ইকোপার্কে পশু খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আড়াই মাস ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বন্য প্রাণীদের খাবার সরবরাহ না করায় দর্শনার্থী ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইকো-ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধি শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সখিনা বিটে ২০১১-১২ অর্থবছরে একটি ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেংরাগিরি বনাঞ্চলের অভয়ারণ্যে ১০টি হরিণ, ২৫টি শুকর, ৩টি চিতাবাঘ, ২৫টি অজগর, ২টি কুমির, শতাধিক বানর ও দুটি সজারু সহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে।

দৈনিক হরিণ, বাঘ, কুমির ও শুকরের খাবার সরবরাহ করে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের চলতি তারিখ পর্যন্ত কোনো খাবার সরবরাহ করেনি। ফলে আড়াইমাস ধরে প্রানীগুলো অর্ধহারে অনাহারে দিন যাপন করছে।

ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের দেয়া ও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মচারীরা নিজস্ব উদ্যোগে কিছু খাবার সরবরাহ করছে। তা দিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে প্রানীগুলো আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে এখন আর বন্য প্রানীর চঞ্চলতা নেই।

টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনের সখিনা বিট কর্মকর্তা সজিব কুমার মজুমদার জানান, প্রাণীকুলের খাবারের জন্য চলতি অর্থ বছরে এখনো কোন অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র জানান, জুন মাসে বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। নতুন অর্থ বছরে কোনো পশু খাবারের বরাদ্দ পাইনি। তাই জুলাই মাস থেকে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ইকোপার্কের প্রানীগুলো না খেয়ে অচিরেই মারা যাবে উল্ল্যেখ করে সোনাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস ফরাজী বলেন, জুলাই মাসে টেংরাগিরি ইকোপার্কের পশুদের খাবারের জন্য সরকার কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। আড়াইমাস ধরে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন চলবে। স্থানীয়দের খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে প্রানীগুলো মারা যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: