সখিপুরে কোয়েল খামারির সাফল্য : মাসে আয় লাখ টাকা (ভিডিও)
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
ছোটবেলা থেকেই কোয়েল পালনের প্রতি আগ্রহ ছিল। কোয়েল পালন করে অনেকে সফল হয়েছেন টেলিভিশনে এমন প্রতিবেদন দেখে কোয়েল পালনের প্রতি আরও আগ্রহ বাড়ে। এরপর ৫০০ কোয়েলের বাচ্চা নিয়ে ২০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলেন কোয়েলের খামার। এখন তার খামারে কোয়েলের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার কোয়েল ডিম দিচ্ছে। এতে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। এভাবেই সফলতার কথা বলছিলেন টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের সফল কোয়েল খামারি শামীম আল মামুন।
সরেজমিন শামীম আল মামুনের কোয়েলের খামারে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কোয়েল পালনের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে সাত বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে ২০০১ সালে কোয়েল পালন শুরু করেন। উপজেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৫০০ কোয়েলের বাচ্চা নিয়ে আসেন তিন বগুড়া থেকে। নিজেই যত্ন নিতে থাকেন। আস্তে আস্তে কোয়েল পাখির সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্য। খুঁজে পান বিনোদন। সেখান থেকে প্রতি মাসে ভালো একটা আয়ও হতে থাকে। বাড়াতে থাকেন কোয়েলের সংখ্যাও।
বর্তমানে তার খামারে কোয়েলের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার কোয়েল ডিম দিচ্ছে। এতে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা তার আয় হয়।
শামীম আরও জানান, কোয়েলের খামারে কোনো দুর্গন্ধ নেই। তাই এটি পরিবেশবান্ধব। ব্যবসার পাশাপাশি কোয়েল চাষ উন্নত বিনোদনের খোরাক জোগায়। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে খামার দেখার জন্য লোকজন আসেন। তারা জানতে চান কোয়েল পালনের কলাকৌশল। বাচ্চাই বা পাওয়া যায় কোথায়। কিন্তু কাছাকাছি কোথাও বাচ্চা পাওয়া যায় না। বাচ্চার জন্য যেতে হয় বগুড়া ও নেত্রকোনায়। তাই তিনি কোয়েলের বাচ্চা উৎপাদনের জন্য গড়ে তুলেছেন একটি হ্যাচারি।
তিনি আরও বলেন, কোয়েলের নিজস্ব কোনো খাবার না থাকলেও বাজারে পাওয়া মুরগির খাবার দিয়েই কোয়েল পালন করা যায়। বাজারে দুই জাতের কোয়েল পাওয়া যায়। এর মধ্যে লেয়ার জাতের কোয়েল ৪২ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ডিম দেয় এবং টানা ১৮ মাস ডিম দিয়ে থাকে। আর ব্রয়লার জাতের কোয়েল ২৮ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়। কোয়েলের মাংস ও ডিম খুব সুস্বাদু, পুষ্টিকর।
শামীম জানান, যারা তার খামারে আসেন তিনি তাদের কোয়েল পালন করতে পরামর্শ দিয়ে আনন্দ পান। কোয়েল চাষ অল্প পুঁজিতে একটি লাভজনক ব্যবসা। তিনি বলেন, একটি ছোট পরিবার কোয়েল পালন করে সচ্ছলভাবে চলতে পারে। শামীমের প্রতিবেশী মামুন হায়দার বলেন, শামীম কোয়েল পালনে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা থেকে এলাকার বেকার যুবকরা শিক্ষা নিতে পারেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হেলাল আহম্মদ বলেন, কোয়েলের ডিম ও মাংসে কোলেস্টেরল কম থাকায় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এমনকি রোগীর পথ্য হিসেবেও কোয়েলের মাংস ও ডিম খুব উপযোগী। তিনি আরও বলেন, কোয়েল পালনে কোনো ঝুঁকি নেই। মুরগির ভ্যাকসিন দিয়েই এর চিকিৎসা হয়।

