এক যুগ পর অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তানের ওয়ানডে জয়

ক্রিড়া প্রতিবেদক:
১৯৯৫ সালে শেষবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জিতেছে পাকিস্তান। আর ওই মাটিতে ১৬ ওয়ানডে জয়ের শেষটিও এক যুগ আগের। ২০০৫ সালে শেষবার কোনো সংস্করণের ক্রিকেটে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল তারা। এক যুগ পর আবার অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের উৎসব করলো পাকিস্তান। রোববার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিকদের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। ১৪ বল হাতে রেখেই অসাধারণ জয়টা তুলে নিয়েছে তারা। ৫ ম্যাচের সিরিজে তাই ১-১ এ সমতা এখন।

আসলে ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটাও জিততে পারতো পাকিস্তান। অবিশ্বাস্য ভাবে ওই ম্যাচটা হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। মেলবোর্নেও এদিন বোলাররা দারুণ পারফর্ম করলেন। তাতে ৫০ ওভারও টিকল না স্বাগতিকরা। ৪৮.২ ওভারে ২২০ রানে অল আউট হয়েছিল। পেসাররা দারুণ করলেন। স্পিনাররাও হাত লাগালেন। আজহার আলি ইনজুরিতে। নিয়মিত অধিনায়কের বদলে স্ট্যান্ড ইন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাফিজ নেতৃত্বটা দিয়েছেন দারুণ। কিন্তু আগের ম্যাচ ওভাবে হেরে বসায় পাকিস্তানকে নিয়ে শঙ্কা ছিল। ইনিংস ওপেন করে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাফিজই ৭২ রান করে এবার কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। পরে জয়ের ফিনিশিং টাচ দিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিক। ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হাফিজই জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

আগের ম্যাচের মতো এবারও আগে ব্যাট করলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। টস জিতেছিল তারাই। যথারীতি বল হাতে পাকিস্তান কাঁপিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। বাঁহাতি পেসার মোহম্মদ আমির নিয়েছেন ৩ উইকেট। পেসার জুনায়েদ খানের শিকার ২ উইকেট। স্পিনার ইমাদ ওয়াসিমও নিয়েছেন ২টি উইকেট।

আগের ম্যাচের মতো শুরুতে ভেঙে পড়েনি অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে। ওটাই শেষে কাল হয়েছে। ঠিক ম্যাচ জেতার মতো সংগ্রহ ব্যাটসম্যানরা দিতে পারেননি। টপ অর্ডারে উসমান খাজা (১৭), ডেভিড ওয়ার্নার (১৬), মিচেল মার্শ (০) ব্যর্থ। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ হামলা সামলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাথু ওয়েডের। এছাড়া ট্রাভিস হেড ২৯, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৩ ও জেমস ফকনার ১৯ রান করেছেন।

টার্গেট আধুনিক ওয়ানডেতে খুব বড় নয়। কিন্তু দলটা আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান। অবশ্য জুনায়েদ খান বল হাতে যেমন টোনটা ঠিক করে দিয়েছিলেন ব্যাট হাতে সেই কাজটা করলেন হাফিজ। শারজিল খানের (২৯) সাথে তার ৬৮ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। এরপর বাবর আজমের (৩৪) সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি হাফিজের।

দলের ১৪২ রানে হাফিজ যখন ফেরেন তখনো ১৮ ওভার বাকি। কাজ খুব কঠিন না। আজহার, সরফরাজ আহমেদ না থাকলেও ব্যাটিং গভীরতা কমেনি পাকিস্তানের। উমর আকমল ছিলেন ৬ নম্বরে। তার সাথে পঞ্চম উইকেটে মূল্যবান ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান শোয়েব মালিক। এক যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়োৎসবে মাতে পাকিস্তান।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: