শ্রীলঙ্কায় জিম্বাবুয়ের ৩-২ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

স্পোর্টস ডেস্ক:
পিটার মুর যখন সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন, তখনো জিম্বাবুয়ের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৯ রান। তবে কি হাতের মুঠোয় পাওয়া জয়টা হাতছাড়া হয়ে যাবে জিম্বাবুয়ের? শঙ্কার কালো মেঘ ঠিকই ছেয়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ের আকাশে। তবে সেই শঙ্কার মেঘ দূরে ঠেলে জিম্বাবুয়েকে দারুণ এক জয় এনে দিলেন সিকান্দার রাজা।

হাম্বানটোটায় সোমবার সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সফরকারীরা। এই প্রথম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতল জিম্বাবুয়ে। ২০০৯ সালের পর বিদেশের মাটিতে তাদের প্রথম সিরিজ জয়। ২০০১ সালের পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ও।

এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৩ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭১ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে।

অথচ একটা সময় মনে হচ্ছিল, অনায়াসে বড় জয়ই পাবে জিম্বাবুয়ে। মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সলোমন মিরে ১৪.২ ওভারেই গড়েন ৯২ রানের উদ্বোধনী জুটি। মিরে ৪৩ করে ফিরলেও মাসাকাদজা তুলে নেন ফিফটি। একটা সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১৩৭। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ওভারপ্রতি প্রায় আড়াই আস্কিং রানরেটে জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৬৭ রান।

কিন্তু এরপরই মালিঙ্গার বলে মাসাকাদজা ৭৩ করে ফিরতেই হঠাৎ পথ হারায় জিম্বাবুয়ে। মাসাকাদজার পর আকিলা ধনঞ্জয়ার পরপর দুই ওভারে ফিরে যান আগের ম্যাচের নায়ক ক্রেইগ আরভিন ও শেন উইলিয়ামস। ১ উইকেটে ১৩৭ থেকে সফরকারীদের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৫২।

তিনে নামা তারিসাই মুসাকান্দা তখনো দলকে টানছিলেন। কিন্তু দলের ১৬৫ রানে তিনি ব্যক্তিগত ৩৭ করে ফেরার পর দ্রুতই ম্যালকম ওয়ালার আর মুরকেও হারায় জিম্বাবুয়ে। ১৭৫ রানে ৭ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের তখনো প্রয়োজন ২৯ রান। তবে অষ্টম উইকেটে অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারের সঙ্গে বাকি পথটা দারুণভাবে পাড়ি দিয়েছেন রাজা। হাসারাঙ্গাকে লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়সূচক রানই আসে রাজার ব্যাট থেকেই।

২৭ বলে ২ ছক্কা ও এক চারে ঠিক ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রাজা। ১৩ বলে ১১ রান করে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন অধিনায়ক ক্রেমার। এর আগে বল হাতেও ২১ রানে ৩ উইকেট নেওয়া রাজা হয়েছেন ম্যাচসেরা।

প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই জিতেছিল রান তাড়া করা দল। এদিন টস জিতে তাই শ্রীলঙ্কাকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে একটুও দেরি হয়নি জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেমারের। আগের দুই ম্যাচেই দুইশ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়া শ্রীলঙ্কা আজ শুরুতেই পড়ে বিপাকে। ৩১ রানের মধ্যেই হারায় ৩ উইকেট। আগের দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি করা নিরোশান ডিকভেলা করেন ৩।

এরপর দলকে টেনেছেন দানুস্কা গুনাথিলাকা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। কিন্তু ম্যাথুস (২৪) ও গুনাথিলাকার (৫২) বিদায়ের পর আবার পথ হারায় স্বাগতিকরা। একটা সময় ১৫৩ রানেই হারায় ৮ উইকেট। তখন দুইশ হওয়া নিয়েই শঙ্কা। নবম উইকেটে দুসমান্থা চামিরার (১৮*) সঙ্গে আসেলা গুনারত্নের (৫৯*) ৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে দেয় লড়াইয়ের পুঁজি। তবে সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না মোটেও! ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতল জিম্বাবুয়ে।

অথচ জিম্বাবুয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে এসেছিল র‍্যাঙ্কিংয়ের ১১তম দল হিসেবে। গত মাসেই হেরেছিল স্কটল্যান্ডের কাছে। বছরের শুরুতে সিরিজ হেরেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সেই জিম্বাবুয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে এসে সিরিজ জিতে চমকে দিল সবাইকে।

জিম্বাবুয়ের সিরিজ জয়ে লাভ হলো বাংলাদেশের! র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান বেড়ে হলো ৬। সাতে থাকা বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯৪, আটে থাকা শ্রীলঙ্কার ৮৮।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: