শরীরের রক্ত ও সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ‘বঞ্চনার’ প্রতিবাদ জানাবে ৩৪তম বিসিএসের ক্যাডার পদবঞ্চিতরা
ঢাকা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কার্যালয়ের সামনে সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ‘বঞ্চনার’ প্রতিবাদ জানাবেন ৩৪তম বিসিএসের ক্যাডার পদবঞ্চিতরা । পাশাপাশি শরীরের রক্ত বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দেয়ালে নিক্ষেপ করবে তারা। ফলাফল পুনঃপ্রকাশ করে শূন্যপদ পূরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন ক্যাডার পদবঞ্চিতরা ।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাব, শহীদ মিনার, জাতীয় জাদুঘর ও পিএসসি কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েক দফা অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচির বিষয়ে আন্দোলনের সমন্বয়কারী নূর ইসলাম সোমবার রাতে বলেন, ৩৪তম বিসিএসে যে অনিয়ম হয়েছে তার প্রতিবাদে আগামীকাল আমরা কঠোর কর্মসূচি পালন করবো।
‘আমরা শরীরের রক্ত পিএসসির দেয়ালে নিক্ষেপ করবো, সার্টিফিকেট পুড়িয়ে অনিয়মের প্রতিবাদ জানাবো। যে দেশে শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি হয়, সে দেশে আমাদের সার্টিফিকেটের কোনো দরকার নেই,’ । তিনি বলেন, যে সকল কর্মকর্তা অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের কুশপুত্তলিকা পোড়াবো আমরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, শূন্যপদে মেধাবীদের মূল্যায়ন করে মেধা ও প্রাধিকার কোটা আলাদা করে ফল প্রকাশ করতে হবে।
তাদের অভিযোগ, ৩৩তম বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫৪ শতাংশ প্রার্থীকে ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু ৩৪তম বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ প্রার্থীকে ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক উত্তীর্ণ মেধাবী পদবঞ্চিত হয়েছেন। এই বৈষম্য দূর করে ৩৩তম বিসিএসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৩৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনঃমূল্যায়ন করার দাবিতেই আন্দোলন করছেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এর আগে পিএসসি চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেছিলেন, আন্দোলনকারীরা না জেনে আন্দোলন করছেন।
প্রসঙ্গত, ৩৪তম বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৮৭৬৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১৫৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। কিন্তু এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কৃতকার্যদের ৪০৪টি শূন্যপদ পূরণ করে ফলাফল পুনঃপ্রকাশের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
৩৪তম বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার দু’বারে ফল প্রকাশ, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও ক্যাডার পদে সুপারিশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থীরা।

