মহীয়সী নারী মাদাম কুরি’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ
হালিমা তুজ সাদিয়াঃ কুরি- বিজ্ঞান জগতের এক অনন্য নাম। তিনি ‘মাদার অফ মডার্ন ফিজিক্স’ নামে বিশ্বখ্যাত। অসম্ভব মেধাবী এই নারী পৃথিবীর প্রথম বিজ্ঞানী যার অর্জনের তালিকায় রয়েছে দুই-দুইটি নোবেল পুরষ্কার। প্রথমবার ১৯০৩ সালে তিনি, তার স্বামী পিয়েরে কুরি এবং পদার্থবিদ হেনরি বেকরেলের সাথে পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালে এককভাবে রসায়নে নোবেল পান।
পদার্থবিজ্ঞানে তিনি নোবেল পান তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করার জন্য।
আর রসায়নে নোবেল পান পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পৃথক করার জন্য।
মারি ক্যুরি ১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ারশতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার পড়াশোনার প্রতি অন্যরকম টান ছিলো কিন্তু শুধুমাত্র মেয়ে শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে মারি ক্যুরি কোন নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেননি। তাই তিনি ভ্রাম্যমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে জ্ঞান চর্চা করতেন। মেরি কুরি সারা জীবন তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি সর্বাধিক পরিচিতি পান তেজস্ক্রিয় মৌল নিয়ে কাজ করার সুবাদে। তিনি নিজে প্রথম যে মৌলটি আবিষ্কার করেন তা- তার জন্মভূমির নামানুসারে নামকরণ করে ঐ মৌলের নাম দেন পোলনিয়াম। তার আবিষ্কারের মধ্যে পোলোনিয়াম ও পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পৃথকীকরণ উল্লেখযোগ্য। এই আবিষ্কারগুলো তাকে সম্মানের উচ্চ আসনে পৌঁছে দিয়েছিল।
আবার, তার এই আবিষ্কারই তার জীবন কেড়ে নিয়েছিলো। তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খুব একটা সতর্কতা মানার অভ্যাস ছিলো না তার। তিনি তেজস্ক্রিয় পদার্থ টেস্টটিউবে রেখে সেগুলো পকেটে নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং এগুলো সংরক্ষণে ডেস্কের ড্রয়ার ব্যবহার করতেন। ফলশ্রুতিতে তিনি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হন ‘অ্যাপলাস্টিক অ্যানিমিয়া’ নামের এক ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে যা দেহে অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে প্রতিদিন তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
এভাবে ‘অ্যাপলাস্টিক অ্যানিমিয়ায় ‘ আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই এই মহিয়সী নারীর মৃত্যু হয়।
তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন আদর্শ স্ত্রী , দায়িত্বশীল মা এবং একজন মানবদরদী। তার জীবনের সর্বশেষ বছরে তিনি একটি বই লিখার কাজ করেছিলেন “তেজস্ক্রিয়তা” যা ১৯৩৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পরপরই প্রকাশিত হয়। তিনি তার জীবনে নোবেল পুরষ্কার ছাড়াও আরো অনেক পুরষ্কার এবং সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তেজস্ক্রিয়তার একক ক্যুরি (প্রতীক Ci), এটি তার এবং তার স্বামী পিয়েরের সম্মানেই রাখা হয়েছে, ৯৬ পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট মৌলের নামকরণ করা হয়েছিল ‘কুরিয়াম’ – যা তাদের সম্মানার্থে। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানও তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। মানব ইতিহাসে মেরি কুরি বিস্ময় সৃষ্টিকারী একটি নাম যার অবদান বিজ্ঞান জগতে অপরিসীম!

