জলবায়ু পরিবর্তনে উদ্বেগ বাড়ছে তরুণ প্রজন্মে
সাবরিন জাহান
পরিবেশ সংক্রান্ত একের পর এক গবেষণা আমাদের জানান দিচ্ছে,খুব দ্রুতই পৃথিবীর পরিবেশ মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমশ বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে একাধিক প্রজাতি। সেই সাথে মানুষের অবস্থাও এখন আর নিরাপদ নেই। ইতিমধ্যেই পরিবেশ দূষণের কারণে বিপন্ন মানুষের জীবনযাত্রা।
শারীরিকভাবে সীমিত হলেও মানসিকভাবে গুরুতর প্রভাব ফেলছে জলবায়ুর এই পরিবর্তন। ক্রমশ শিশুদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। এমনটাই দাবি করছেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষকরা। সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল পত্রিকায়।
গবেষণায় দেখা যায় বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত চুক্তিসমূহের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ অন্তত ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ভয়ংকর এই উষ্ণায়নকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।
এই বিষয়ক বিস্তারিত পরিসংখ্যান করেছেন লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের দুইজন গবেষক মালা রাও এবং রিচার্ড পাওয়েল। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি আর এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ভাবে কোনো উদ্যোগ নিতে না পারায় ক্রমশ তা মানসিক অসুস্থতায় পরিণত হচ্ছে,বাড়ছে হতাশা। কারণ ভবিষ্যতে ভয়ংকর সময়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে এই প্রজন্মকেই। রাও এবং পাওয়েল গবেষণায় জানিয়েছেন, পরিবেশ সমস্যার সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সার্বিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই রূঢ়তায় পরিবর্তন এসেছে অন্যান্য প্রাণীদের আচরণেও। বসবাস যোগ্য পরিবেশ সীমিত হয়ে যাওয়ায় তাদের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন। এখনও পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি চিকিৎসকরা। কিন্তু ক্রমশ বিষয়টা মুখ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই মত গবেষকদের। সুস্থ পরিবেশে বাচতে হলে এই বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই বলে মনে করেন তারা। একই সাথে তরুণদের এটাও জানানো প্রয়োজন, ব্যক্তিগত স্তরে কী কী উদ্যোগ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।

