ফিশারিজ সেক্টরের চাকরিতে আবেদন করতে পারবে না ফিশারিজ গ্রাজুয়েটরাই, শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্ম কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত মৎস্য অধিদপ্তরাধীন দশম গ্রেডের ফিশারিজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে প্রাণিবিদ্যা ও মৎস্য ডিপ্লোমাধারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হলেও মাৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের আবেদনের কোন সুযোগ রাখা হয় নি।
গত ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তত্ত্বাবধায়ক পরিদর্শক, সহকারী হ্যাচারি কর্মকর্তা, সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা পদসমূহে মোট ২০১ টি শূন্য পদের নিয়োগে প্রাণিবিদ্যা ও মৎস্য ডিপ্লোমাধারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। মৎস্য বিষয়ক পদ হলেও মাৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এইসব পদে আবেদনের সুযোগ না থাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রায় ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মৎস্য গ্রাজুয়েটদের মাঝে।

সবুজ বাংলাদেশ 24 ডট কমের সাথে আলাপকালে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর ১৪০০ এর বেশি ফিশারিজ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছি। কিন্তু জব সেক্টর সীমিত হওয়ায় ১০/১১ তম গ্রেডের ব্যাংক কিংবা অডিটরের মত নন-টেকনিক্যাল পদের পিছনে আমাদের ছুটতে হয়। অথচ আমাদের নিজস্ব টেকনিক্যাল জবেই আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয় না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তারা আরও বলেন, ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের দক্ষতার কারণেই বাংলাদেশ আজ স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম, বদ্ধ জলাশয়ের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ। বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশেন ৮৬ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। দেশের জিডিপিতে মৎস্য সম্পদের অবদানের হার ৩.৫৭ শতাংশ। তাই কর্মক্ষেত্রে যদি ফিশারিজ গ্রাজুয়েটদের বঞ্চিত করা হয় তা হবে দেশের অর্থনীতির উপর আঘাত। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে টেকনিক্যাল পদসমূহে মাৎস্যবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান।

