সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় আইএস প্রধান নিহত
নিউজ ডেস্ক:
মার্কিন হামলায় ইসলামিক স্টেট (আই এস) এর প্রধান আবু ইব্রাহিম আল হাশেমি আল কুরাইশি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক রাতভর অভিযানে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর নেতা নিহত হয়েছেন।”
বিবিসি সূত্র থেকে জানা যায়, তুরস্ক সীমান্তের কাছে আতমেহ এলাকায় একটি দোতলা বাড়িতে আল-কুরাইশি লুকিয়ে ছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো আগেই নিশ্চিত তথ্য পেয়েছিল। এই বাড়ির ওপর আক্রমণ চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযানের শুরুতে আল-কুরাইশি একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। যে বিস্ফোরণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। এ অভিযানের পর তারা সেখানে ১৩ জনের লাশ পেয়েছেন।
সিরিয়া সিভিল ডিফেন্স প্রতিরক্ষা বাহিনী যারা হোয়াইট হেলমেট নামে পরিচিত তারা বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ওই ভবনে তাদের বাহিনীর প্রথম সদস্যরা পৌঁছায় ভোর সোয়া তিনটা নাগাদ এবং সেখান থেকে ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করে যার মধ্যে ছয়জন শিশু এবং চারজন নারী ছিল।
মানাবধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও নিহতের সংখ্যা ১৩ বলে নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় প্রায় মধ্যরাতে বেশ কয়েকটি আমেরিকান হেলিকপ্টার আতমেহ ইদলিব প্রদেশের উত্তরে অবতরণ করে। তখন মার্কিন সৈন্যরা অপ্রত্যাশিতভাবে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল এবং আমেরিকান হেলিকপ্টারগুলো সাঁজোয়া যান থেকে ছোঁড়া বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের মুখে পড়ে। হেলিকপ্টারগুলো স্থান ত্যাগের আগ পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ধরে বন্দুকের গুলি ও গোলাবর্ষণের আওয়াজ শোনা গেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেবার পর একটি হেলিকপ্টার সেখানে রেখে যায় মার্কিন সৈন্যরা। পরে মার্কিন বিমান হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হয়।
তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন,” অভিযানের সাথে যুক্ত আমেরিকান সৈন্যদের সকলেই নিরাপদে ফেরত গেছে।”
ইসলামিক স্টেট এর প্রতিষ্ঠাতা আবুবকর আল-বাগদাদি নিহত হবার পর এটিই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে দাবি করা হচ্ছে।
কুরাইশি নিহত হওয়ায় বিশ্বের জন্য একটি বড় সন্ত্রাসী হুমকি দূর হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাইডেন। এছাড়া সিরিয়ায় অভিযানের সফলতার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।

