বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে বাকৃবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ৫ ডিসেম্বর, বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় “মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ” কর্তৃক আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। ‘মাটিঃ খাদ্যের সূচনা যেখানে’ স্লোগানে দিনব্যাপী পালন করা হয় দিবসটি।
সকাল ১০ঃ৩০ টায় বাকৃবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়। র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিষয়ক গবেষকবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী।
এরপর বেলা ১১ঃ৩০ টায় কৃষি অনুষদের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো আজিজুল হক এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড.মো.মুজিবুর রহমান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাকেহিরো ক্যামিয় । উক্ত আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডঃ তাহসিনা শারমিন হক এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. হোসেনুজ্জামান।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক, অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের, অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ হোসেন সুমন, অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীরসহ ওই বিভাগের স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মৃত্তিকা বিজ্ঞানীগণ।
আলোচনার শুরুতে মাটির গঠন ও ব্যবহারের উপর প্রামাণ্য চিত্র ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্পোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড.রফিকুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর উপরিভাগের নরম আবরণই হলো মাটি। খনিজ পদার্থ, জৈব-অজৈব পদার্থ, বায়ু ও পানি ইত্যাদি মিশ্র পদার্থ দ্বারা মাটি গঠিত। ফসল উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি মাটি। এই মাটি আমাদের রক্ষা করতে হবে। মাটি দূষণ বন্ধ করতে হবে।
অধ্যাপক ড. তাহসিনা শারমিন হক বলেন, কৃষি জমিতে ৫ শতাংশ হারে জৈব পদার্থ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমান দিন দিন কমে আসছে। তাই কৃষি জমিকে কম চাষ করতে হবে। এছাড়া কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার কৃষকরা যেন ব্যবহার না করে সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে হবে। রাসায়নিক সার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভারী ধাতুর উৎস গুলো থেকে মাটিতে ধাতুর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাটিতে দূষণ রোধ করতে জনসাধারণকে সচেতনতাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

