শর্ত পূরণেও পদোন্নতিতে বিলম্ব খুকৃবির ৩৭ জন শিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টারঃ

শর্ত পূরণ করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবির) ৩৭ জন শিক্ষক। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য দুই বছর সক্রিয় চাকুরিকাল এবং ২টি প্রকাশনার প্রয়োজন। এই  নিয়ম অনুযায়ী সকল শর্তপূরণ করে  খুকৃবির ৩৭ জন প্রভাষক গত ২২ নভেম্বর ২০২২ ইং তারিখে সকল আবেদনপত্র জমা দেন। দীর্ঘ ৩ মাস অতিক্রম করলেও শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখনো কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী এসব শিক্ষকদের।

জানা যায়, ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক ধাপে যোগদান করেন ৭৩ জন শিক্ষক যারা প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তি ও সকল আইন অনুসরণ করেই নিয়োগ পান। গত ২৩ জানুয়ারী ২০২২ ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, সংবিধি ও প্রবিধি অনুসরণ করে বিষয় বিশেষজ্ঞসহ পৃথকভাবে প্রতিটি বাছাই কমিটি গঠন করে অবিলম্বে কমিশনকে অবহিত করার সুপারিশ প্রদান করে ইউজিসির তদন্ত কমিটি। এই সুপারিশের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৩ আগষ্ট ২০২২ ইং তারিখে ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলছেন, তারা নিয়োগ বাছাই কমিটি গঠন বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নন। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব শিক্ষকদের দাবী, তারা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগ বোর্ড গঠন বিষয়টি একান্তই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বিষয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নেতৃবৃন্দ কয়েক দফায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সাথে আলোচনা করে এবং বিষয়টি সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু আইন ও বিধি পরিমার্জিত করে একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত হয়েছে যা আগামী সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপিত হবে বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষকরা সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছেন, এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করার পরও এখনো প্রশাসনের এই বিষয়ে কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানায়, খুকৃবি শিক্ষক সমিতি ও নীল দলের নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষকরা একাধিকবার প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে পদোন্নতির পদক্ষেপ নিতে বলেন। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিষয়ে কোন প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছেনা এবং বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের পদোন্নতিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে। অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সকল কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে, এমনকি নতুন নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ঐ শিক্ষক।

এবিষয়ে জানতে চাইলে খুকৃবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমান খান যে সমস্যা তৈরি করে গেছেন তার জন্য বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শাহজাহান বলেন, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অবজারভেশন অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞের বিষয়টি সামনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর করে তাদের পদোন্নতির সমাধান করা যাবে।

এদিকে এইসব শিক্ষকদের অনেকেই উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে স্কলারশিপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও পদোন্নতির বিলম্বের জন্য এসব সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, এসব শিক্ষকগণ ও তাদের পরিবার মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও অনেকই আশংকা প্রকাশ করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •