ক্যান্সার আক্রান্ত হাবিবুল বাশারের ভাইকে বাঁচাতে মাশরাফিদের অনুরোধ

ক্রিড়া প্রতিবেদক:
তিন মাস ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত সাবেক ফুটবলার কাজী ইকরামুল বাশাল তুহিন। তিনি পাকস্থলি ক্যান্সারে ভুগছেন। বেশ কয়েকটি ক্লাবসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডানের হয়ে কয়েকটা মৌসুম ঘরোয়া ফুটবল খেলা ইকরামুল বাশারে আরো একটি পরিচয় আছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের বড় ভাই।

ক্যান্সারে আক্রান্ত সাবেক এই ফুটবলারকে দেখতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও পেসার তাসকিন আহমেদ।

সাবেক এই ফুটবলারকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন ক্রিকেটাররা। এ নিয়ে মাশরাফি বলছেন, ‘আমাদের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে নির্বাচক হাবিবুল বাসার সুমন ভাইয়ের বড় ভাই একরামুল বাসার তুহিন ভাই উনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। সবারই আসার কথা ছিল কিন্তু অনুশীলনের জন্য আসতে পারেনি। বলতে পারেন পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য এসেছি।’

ক্রিকেট বোর্ডসহ সবাইকে ইকরামুল বাশারের পাশে এসে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন মাশরাফি, ‘একটা অনুরোধ করবো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ফুটবল ফেডারেশন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন সবাই এসে সাহায্য করবেন। আমরা আমাদের যে যে জায়গায় আছি সেখান থেকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। উনি বাংলাদেশের স্পোর্টসে অনেক কিছু দিয়েছেন।’

এক সময় মোহামেডানের হয়ে খেলায় ইকরামুল বাশারকে সাহায্য করতে মোহামেডান ক্লাবের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন মাশরাফি, ‘উনি প্রায় পাঁচ-ছয় বছর মোহামেডান ক্লাবে খেলেছেন। তাই আশা করবো মোহামেডান ক্লাব উনার পাশে এসে দাঁড়াবে। কারণ মোহামেডান ক্লাব অনেক ভালো ভালো কাজই করে।’

বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল বলছেন, ‘একজন স্পোর্টসম্যান কষ্ট করছে। তাই আমি অনুরোধ করবো ছোট-বড় যতটুকুই পারি উনার জীবনে আবার যদি সুখ ফিরিয়ে আনতে পারি তাহলে এর চেয়ে বেশি তৃপ্তি কিছুই হবে না। আমাদের সবার তরফ থেকে অুনরোধ আমরা সবাই যদি একটু সাহায্য করি এটাই উনার পরিবারের জন্য অনেক বড় সাহায্য হবে।’

মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘মাশরাফি ভাই, তামিম যেটা বলল সবাই যদি এ সময় কিছু সাহায্য করতে পারি তাহলে যে কোনো কিছুই সম্ভব। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবো। আর অবশ্যই চেষ্টা করবো যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন পাশে দাঁড়াই। আর আমরাও চেষ্টা করবো তাকে সাহায্য করার।’

তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ বললেন, ‘বড় ভাইরা তো সব বলেছে। আসলে এ মুহূর্তে বড় বড় মানুষ, প্রতিষ্ঠান যারা আছে তাদের এখন উনার পাশে থাকা উচিত। একসময় তিনি স্পোর্টসের জন্য অনেক কিছু করেছে। আর আমরাও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

ইকরামুল বাশার আশির দশকে ঘরোয়া ফুটবলে ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব, আরামবাগ, বাংলাদেশ পুলিশ ও মোহামেডানের হয়ে খেলেছেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মোহামেডানের গোলরক্ষক ছিলেন তিনি। কিন্তু ওই সময় গোলরক্ষক সাঈদ হাসান কানন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকায় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইকরামুল বাশার মোহামেডানের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারেননি।

  •  
  •  
  •  
  •