দিনাজপুরে ২৫ হাজার ২শ’ মেটিক টন লিচু উৎপাদন

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে ১৩টি উপজেলায় ৪ লাখ ৪২৫ হেক্টর জমিতে ২৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন লিচু হয়েছে। মধুমাস শুরুতেই বাজারে পর্যাপ্ত লিচু উঠতে শুরু করেছে। বিভিন্ন পরিবহন যোগে এখান থেকে লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দিনাজপুর হটিকালচার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, এ মৌসুমে শুরুতেই গত ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত দিনাজপুর অঞ্চলে পর্যাপ্ত তাপদাহ ও অনাবৃষ্টি থাকলেও লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান মালিকেরা এবং মৌসুমী লিচু ব্যবসায়ীরা লিচু বাগান আগাম ক্রয় করে ভালো লিচুর ফলন পাওয়ার আশায় লিচু বাগানে পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষণ করার কারণে অতি খরা ও তাপদাহ থাকলে লিচুর ফলনের কোন ক্ষতি হয়নি।

তবে লিচু ফলনের শেষ দিকে এসে কিছু লিচু বাগানের বড় গাছগুলোর ফল ছোট হয়েছে। তবে অন্যান্য গাছের লিচুর ফল স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতি বছরেই লিচু ফলে বিভিন্ন ধরনের বালাই আক্রমণ করে। এবারও এধরনের ছোট-খাটো বালাই ছিল। তবে ফলের জন্য ক্ষতিকারক নয় এধরনের স্প্রে প্যাকলোবিউট্রাজল ও ইথুফেন রাসায়নিক পানির সাথে মিশিয়ে লিচুর গাছে বাগান মালিকেরা স্প্রে করে। তাদের এই ২টি স্প্রে পরিমাণমত পানির সাথে মিশিয়ে লিচু গাছে মৌসুমের শুরু থেকে পরিপাকের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

তবে ইদানিং বেশ কিছু ক্ষতিকারক স্প্রেও বাজারে এসেছে। যা মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা গাছে স্প্রে করে লিচু ফলের আকার বড় ও অতি মাত্রায় ফল ধরার সহায়ক করছে। ওই সব ক্ষতিকারক স্প্রে নিউট্রেশিয়া, জিমুনিটেক ও এলারসল স্প্রে লিচু গাছে প্রয়োগের ফলে যে লিচুফল উৎপাদন হয় ওই লিচু সেবনের পর শিশু বাচ্চাদের ক্ষতি হয়। এবারে এসব ক্ষতিকারক স্প্রে তরল সার বিক্রি রোধে বাজারে রাসায়নিক সার ডিলারদের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে এসব রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাত্রা নেই বললে চলে।

তিনি বলেন, চলতি বছর জেলার ১৩টি উপজেলাই কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এধরনের ক্ষতিকারক স্প্রে গাছে প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে প্রচারনা ও তদারকি করা হয়েছে। আগামীতে এ বিষয়ে আরও নজরদারী বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

সূত্রটি জানায়, এবারে জেলার ১৩টি উপজেলায় ৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২৫ হাজার ২শ মেট্রিক টন লিচু। গত বছর জেলায় ৪ হাজার ৪৭ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ৪শ মেট্রিক টন লিচু। গতবারের তুলনায় এবারে ৩৭৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ বেশি হয়েছে। লিচুর উৎপাদন বেড়ে গেছে ২ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। লিচু চাষে অধিক মুনাফা হওয়ায় এবং কোন ঝুঁকি না থাকায় দিনাজপুর জেলায় প্রতি বছরই লিচুর বাগানের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার বেদেনা লিচুর উৎপাদন মুখরিত এলাকা হিসেবে পরিচিত আউলিয়াপুর, কমলপুর, উথরাইল, শিকদারহাট, উলিপুর, মাসিমপুর, চেরাডাঙ্গী, কসবা ও শেখপুরা।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, এবারে জেলায় উৎপাদিত ৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর বাগানের লিচু শ্রমে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার শ্রমিক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ী শ্রম দিয়ে থাকে। এই শ্রমের পিছনে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা। লিচু চাষে বাগান মালিকেরা এ বছর আয় করবে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। এ জেলায় এ ফলনের সংরক্ষণের জন্য একটি লিচু সংরক্ষনাগার নির্মানের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। লিচু সংরক্ষণাগার নির্মান হলে পাকা লিচু প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বাজারজাত করা হলে লিচু ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি লিচুর ক্ষতিসাধনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: