শাপলার হাট, আহার জুটছে শতাধিক পরিবারের
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
বর্ষা মৌসুমে জাতীয় ফুল শাপলা বেশ জনপ্রিয় সবজি। এ সময়ে মুন্সীগঞ্জে যেমন শাপলার হাট বসছে, তেমনি শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে শাপলা। আর শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার কয়েক শতাধিক পরিবার।
শাপলা সাধারণত তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্ষাকালে চার থেকে পাঁচ মাস কৃষি জমি পানির নিচে থাকায় এ মৌসুমে কৃষকের তেমন কোনো কাজ নেই। পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
লতব্দী ইউনিয়নের চর নিমতলার বিল থেকে শাপলা সংগ্রহকারী মো. মিজান জানান, এ সময়ে একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০টি শাপলার আটি সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা আবার সংগ্রহকারীর কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে একত্র করে। সিরাজদীখান উপজেলার রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ তালতলায়, হাসাড়া, ছন বাড়ির মোড় ও আড়িয়াল বিলের পাশে শাপলার পাইকারি ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা ক্রয় করে ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি করে থাকে।
ঢাকার পাইকার হহির মিঞা জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক আটি শাপলা ২০ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। তারপর গাড়ি ভাড়া গড়ে তিন টাকা, শ্রমিক খরচ এক টাকা, আড়ত খরচ দুই টাকাসহ মোট ২৭ থেকে ২৮ টাকা খরচ পড়ে। যাত্রাবাড়ী আড়তে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ধরে প্রতি আটি শাপলা বিক্রি হয়।
বর্ষার এই মৌসুমে কৃষক ও অভাবী লোকজন শাপলা কুড়িয়ে তা বিক্রির করার পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
জানা গেছে, বর্ষায় ডুবে যাওয়া ধান, পাট ও ধঞ্চেখেতে শাপলা বেশি জন্মায়। এ ছাড়া জেলার খাল-বিলগুলোতেও শাপলা ফুল জন্মে থাকে। আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় শাপলা। শাপলা সংগ্রহকারীরা ভোরে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করে থাকেন।
কয়েকজন শাপলা সংগ্রহকারী জানান, এ সময়ে একেকজন কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ আটি (৭০-৮০টি শাপলায় এক আটি ধরা হয়) সংগ্রহ করতে পারে। পাইকাররা আবার এসব শাপলা সংগ্রহকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে একত্র করেন। এভাবে দিন শেষে ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা আয় করে থাকেন শাপলা সংগ্রহকারীরা। তারা বছরের চার মাস এ কাজ করেন।
উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের পাইকার সিরাজ মিয়া জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার আটি শাপলা ক্রয় করে থাকেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক আটি শাপলা ২০-৩০ টাকা দরে ক্রয় করেন তিনি। তারপর ট্রাক ভাড়া গড়ে তিন টাকা, লেবার একটাকা, আড়ত খরচ দুই টাকাসহ পায় ৩০ টাকার মতো খরচ পড়ে।
জেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, শাপলা আসলে কোন কৃষি পণ্যের আওতাভুক্ত নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে কৃষিজমি, পুকুর কিংবা ডোবাতে জন্ম নেয়, এই বিষয়ে আমাদের কোন পরামর্শ দেয়ার সুযোগ হয়ে উঠে না। তবে আমরা চেষ্টা করি কৃষকদের সহায়তা করার।
এ ছাড়া ও আমরা কৃষকদের শাপলা বেশিদিন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে বেশিরভাগ শাপলা ঢাকাতে বিক্রি করা হয়ে থাকে। শাপলা তরকারি হিসেবে খুবই মজাদার খাবার হওয়ায় এর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

