ড্রাগন চাষে সফল কৃষকের গল্প- সবুর মোড়ল

খুলনা প্রতিনিধি:

পাইকগাছায় লবণাক্ত মাটিতে ড্রাগন ফল চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক সবুর মোড়ল। সবুর মোড়লের সফলতা দেখে ড্রাগন চাষে এগিয়ে আসছেন অনেক কৃষক। ইতোমধ্যে, দেলুটি সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছেন অনেকেই।

উল্লেখ্য, ড্রাগন ফল গ্রীষ্ম- মন্ডলীয় ও এর নিকটবর্তী অ রের বিদেশী ফল। থাইল্যান্ড এ ফলকে পিতায়া বলে। এ গাছের আধিনিবাস দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, বিশেষ করে মেক্সিকো। ইহা দ্রুত বর্ধনশীল গ্রীষ্ম-মন্ডলীয় ক্যাকটাস গাছগণের অর্ন্তভূক্ত। বর্তমানে এটি পৃথিবীর নতুন ফল হিসাবে খুবই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সন্ধ্যা রাতে এ গাছে সাদা রং এর ফুল ফুটে ভোর রাতে ফুল নেতিয়ে পড়ে। ফুলের ব্যাস এক ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় ফুট। ফুলের মৃদু সু-ঘ্রাণ আছে। মে সামে গাছে ফুল ফোটা আরম্ভ করে জুন মাসে ফল পাঁকা শুরু করে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া, চায়না, শ্রীলংকা সহ অন্যান্য এশিয়ার দেশ গুলো এ ফল চাষে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এ ফল চাষের খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশে ড্রাগন ফলের জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে, আমেরিকান বিউটি, থমসন, ব্লাডি ম্যারি, রেড জাইনা, ভিয়েতনামী জাইনা, জামোরানো, সিউল কিচেন, অ্যালিস ইত্যাদি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের জলবায়ু এই গাছের জন্য ভাল। তুষার ও বরফ সহ্য করতে পারে না। ৩৮ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা এ গাছ সহ্য করতে পারে। গাছের নিরবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধির জন্য ১৮-২৫ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। পূর্ণ সূর্যলোকে এই গাছ রোপন করতে হবে। বর্ষার পানি ওঠে না বা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে না এমন স্থান এই গাছের জন্য ভালো। সুনিষ্কাসিত ও জৈব পদার্থযুক্ত উর্বর যে কোন মাটিতে এই গাছ ভালো জন্মে। তবে জৈব পদার্থযুক্ত বেলে দোঁআশ মাটি উত্তম।

লবণাক্ত মাটিতে ও এ ফলের চাষ করা যায়। লাল ফল (সাদা শাঁস) ৪০০-৬০০ গ্রাম ও ৫০০-১০০০ ওজন হয়, স্বাদ টক ও মিষ্টি। লাল ফল (রঙ্গিন শাঁস) ২০০-৪০০ গ্রাম ও ১০০০ গ্রাম ওজন হয়, স্বাদ খুবই মিষ্টি। ড্রাগন ফলে পানি, শক্তি, আমিষ, চর্বি, শর্করা, আঁশ, এসকরবিক এ্যাসিড, ও ক্যালসিয়াম পুষ্টি বিদ্যমান। ড্রাগন ফলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। এ ফলে প্রচুর আঁশ থাকায় হজম শক্তি বাড়ায় ও চর্বি কমায়। পর্যাপ্ত ক্যারেটিন থাকায় স্মৃতি শক্তি ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। ড্রাগনের বিভিন্ন ধরণের প্রসাধনী গুণও রয়েছে। এর সাদা শাঁসের রস প্রসাধন গুণের আঁধার, স্বাভাবিক বার্ধক্য বিলম্বিত করে, ত্বকে ভাজ পড়া বন্ধ রাখে। বিশেষ করে মেয়েদের রূপচর্চা, মুখ ও ত্বক পরিচর্চায় সাদা ড্রাগন ফল ব্যবহৃত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত এরশাদ আলী মোড়লের ছেলে কৃষক আব্দুস সবুর মোড়ল ৩ বছর আগে পুরাইকাটি মৌজায় ৮০টি গাছ রোপন করার মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। ড্রাগন লবণ সহিষ্ণু ফল হওয়ায় সবুর মোড়ল ড্রাগন ফল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পান। চলতি বছর তার চাষ করা প্রায় অর্ধেক গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি ফল এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে কৃষক সবুর মোড়ল জানান। এদিকে সবুর মোড়লের সফলতা দেখে উপজেলার দেলুটি সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ড্রাগন চাষে এগিয়ে এসেছেন বলে উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: