দেশ ছাপিয়ে বিদেশে যাচ্ছে হবিগঞ্জের লেবু (ভিডিও)
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশে-বিদেশে লেবুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে লেবু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। দিন দিন প্রতিযোগিতামূলক লেবুর আবাদ শুরু হয়েছে এ অঞ্চলে। এতে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের। সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের লেবুর চাহিদা অনেক বেশি।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে বাহুবল উপজেলা মুছাই, দ্বিগম্বর এবং মিরপুর বাজার থেকে এসব লেবু সংগ্রহ করেন। এ অঞ্চলের উৎপাদিত লেবু শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। যাচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যেও।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বাহুবল উপজেলায়। এখানে মোট ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা। এখানে ৫৪০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। এ ছাড়া মাধবপুরে ১৫০ ও নবীগঞ্জে ১৫৫ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়। এ বছর জেলায় প্রায় ৮ হাজার টন লেবু উৎপাদন হয়েছে।
এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতের লেবু হচ্ছে- জারা, কাগজি, বীজবিহীন ও কলম্বো। এ তিনটি উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় লেবুর বাগান। এ সব বাগানের লেবু প্রতিদিন এনে জড়ো করা হয় বাহুবল উপজেলার দ্বিগম্বর, মুছাই ও মিরপুর বাজারে। এখান থেকেই তা বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে মিরপুর বাজারের আব্দুল করিম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমান সময়ে লেবুর চাহিদা বেশি হওয়ায় দেশীয় বাজারজাতকরণ শেষে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। সঠিক মূল্য পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বশির আহম্মদ সরকার জানান, জেলার বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও নবীগঞ্জ উপজেলায় লেবু চাষ হয়। এ জেলা ৬টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের আওতায় হওয়ায় জেলার মাটি বৈচিত্র্যে ভরা। এখানকার উঁচু ভূমির মাটি অম্লীয় হওয়ায় লেবু জাতীয় ফসলের জন্য তা খুবই উপযোগী।
এ অঞ্চলের চাষিরা সঠিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেলে গতানুগতিক কৃষি থেকে বেরিয়ে বাণিজ্যিক কৃষিতে ঝুঁকবে। এ ক্ষেত্রে লেবুসহ অন্যান্য ফল চাষের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু পাহাড়ি নয়, পতিত সমতল জমিতেও লেবু আবাদ করছেন কৃষকরা। লাভজনক এ লেবু গাছের নিচে নাগা মরিচ (কামরাঙ্গা মরিচ) ও নানা ধরনের সবজিও চাষ হচ্ছে।

