গোপালগঞ্জে ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষে ব্যাপক সাফল্য (ভিডিও)
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষে ব্যাপক সাফল্য আর্জিত হয়েছে। মুকসুদপুর উপজেলার কদমপুর গ্রামের কৃষক মো. সামউল মোল্লা কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাগিং পদ্ধতিতে সবরি কলার চাষ করেছেন।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউিটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের পিরোজপুর- গোপালগঞ্জ- বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জানিয়েছে,৩ জেলায় ১০ একর জমিতে সবরি জাতের কলা আবাদ করা হয়েছে। প্রতি একরে কৃষক ১ হাজার কলা গাছ রোপণ করেছে। কলা আবাদের এক বছরের মধ্যে কৃষক ভালো ফলন পায়। প্রতি কাদি কলা বিক্রি করে খরচ বাদে চাষিরা ৫০ টাকা করে লাভ পায়। কিন্তু ব্যাগিং পদ্ধতির কলার মান ভালো হওয়ায় প্রতি কাঁদিতে কৃষক খরচ বাদে অতিরিক্ত ২৫ টাকা বাড়তি আয় করতে পারেন। ফলে সাধারণ পদ্ধতিতে একরে কলা বিক্রি করে কৃষক যেখানে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। সেখানে ব্যাগিং পদ্ধতিতে একরে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এছাড়া প্রতি হেক্টর থেকে কৃষক ৪ হাজার কলার চারা বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন।
মুকসুদপুর উপজেলার কদমপুর গ্রামের কলাচাষী মো. সামউল মোল্লা জানান, ব্যাগিং পদ্ধতিতে এ বছরই প্রথম কলা চাষ করে সফল হয়েছি। রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিটি ব্যাগ ৩৫ টাকা দরে কিনে এনেছি। মোচা কাটার ৭ দিন পর কলায় কাঁদি ব্যাগ দিয়ে মুরিয়ে দিয়েছি। ব্যাগের কলা সাধারণ কলার তুলনায় অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে।
পিরোজপুর- গোপালগঞ্জ- বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম খায়রুল বাশার জানান, এ প্রকল্পের আওতায় কলা চাষ করে কৃষক ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কলা চাষে ‘ব্যানানা উইভিল’ পোকার আক্রমণ হয়না। কলার উপর তিলা দাগ পড়ে না। কলা মসৃন, ভালো শেপ,রং ও গঠনসহ আকর্ষনীয় হয়। বাজারে এ পদ্ধতির কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে কলা চাষ করে কৃষক অতিরিক্ত মুনাফা ঘরে তুলে লাভবান হবেন।

