তানোরে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মিজানুর রহমান, তানোর প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। চারদিকে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। নয়নাভিরাম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ জুড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ। যেন হলুদ রঙে রাঙিয়েছে প্রকৃতি।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তানোরে সরিষার আবাদ ভাল হয়েছে। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সরিষায় ফল ধরতে শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা টরী-৭, বারী ১৪ ও ১৫ আবাদ করেছেন কৃষক। গত বছর এ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছিল।

ইরি-বোরো আবাদের কিছুটা খরচ কমাতে সরিষার আবাদ করা হয়। সরিষার জমিতে বাড়তি হাল চাষ, সার ও ঔষধ দেয়ার দরকার হয় না। ফলে স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে সরিষার জমিতে বোরো আবাদ হওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হন।

সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় কৃষকরা ভাল দামের আশায় বুক বাঁধছেন। এবার প্রতি বিঘা জমিতে টরী ৫/৬ মণ এবং বারী সরিষা ৪/৫ মণ হারে ফলন হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা। সরিষার বর্তমান বাজার দর ১ হাজার ৭ শত থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা মণ হলেও নতুন সরিষা ওঠার সময়ের দাম কমে প্রায় এক হাজার ২ শত থেকে এক হাজার ৪৫০ টাকা মণ হয়। ফলে সরিষার ক্ষেত দেখে খুশি হলেও দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় কৃষকগণ। দাম কম হলে চাষ করতে যে খরচ হয়েছে তা মিটিয়ে নিজের কাছে অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না বলে ধারণা করছেন তারা।

উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর গ্রামের কৃষক জেকের আলী জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বারী-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরিষার গাছও ভাল হয়েছে। গাছে প্রচুর ফুল ধরায় আশানুরূপ ফলন পাবেন বলে মনে করছেন।

উপজেলার তানোর পৌর সদরের চাপড়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রায় ১ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষার জমিতে ধানের আবাদ ভাল হয় এবং খরচ কিছুটা কম হয়। ইরি-বোরো ধানের আবাদ সরিষার বেঁচার খরচ দিয়ে করা হয়। এখন বাজারে দাম ভাল পেলেই হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, সরিষা চাষের প্রতি কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষায় কোনো রোগ বালাই না থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন। আশা করছি আগামীতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

তিনি আরো জানান, সরিষা আবাদের জন্য কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। এবার উপজেলায় প্রায় ৪ শতাধিক কৃষককের মাঝে সরিষা বীজ এবং ইউরিয়া ও ডিএপি সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে পরামর্শ দেয়ায় কৃষকরা উদ্বৃদ্ধ হয়ে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: