মেহেরপুরে সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

মেহেরপুর সংবাদদাতা:
বেশ কয়েকবছর ধরে মেহেরপুর জেলার কৃষকরা সুখসাগর পেঁয়াজ চাষ করে সফলতা লাভ করেছে। অনেকেই লাখপতি হয়েছে। তাই ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে এখন অনেকেই সুখসাগর পেঁয়াজ চাষে উৎসাহী হয়েছে। এবছরও সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে মেহেরপুরের কৃষকরা।

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ মেহেরপুরের মাটিতে ভালো ফলন হয়। এজন্য মেহেরপুর জেলার কৃষকরা পেঁয়াজের চাষে ঝুঁকে পড়ছে। কদম ফুলের মতো গোলাকার হয়ে ধবধবে সাদা ফুল ফুটে। সেই ফুল থেকে পাওয়া বীজই মেহেরপুরের কৃষকদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে। তবে ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষককে লোকসানে পড়তে হয়। কারণ একবিঘা পেঁয়াজের বীজ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। মাত্র পাঁচ মাসে পেঁয়াজবীজ উৎপাদন হয় নিম্নে ২০০ মণ থেকে উর্ধ্বে ৩০০ মণ পর্যন্ত। প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬শ’ টাকা মণ দরে। যা থেকে প্রতিবিঘাতে খরচ বাদে প্রায় একলাখ টাকা লাভ হয়। মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় এই পেঁয়াজচাষ বেশী হয়। এছাড়া একমণ বীজ হলে সেখান থেকে পাওয়া যাবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

সরেজমিনে মুজিবনগর উপজেলার রতনপুর, ভবেরপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজ চারা রোপণ করছে। অনেকে আগাম রোপণ করেছে। এই পৌষের মধ্যে চারা রোপন করলে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে পেয়াজ ও বীজ পাওয়া যাবে।

মুজিবনগর উপজেলার পেঁয়াজচাষিরা জানান, গতবছর সে তিনবিঘা জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজবীজ চাষ করে প্রায় তিনলাখ টাকার বেচাকেনা করেন। এবারও তিনি তিনবিঘা জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজের চারা লাগিয়েছেন।

আমদহ ও আশরাফপুর গ্রামের বিলপাড়ে একদল শ্রমিককে সুখসাগর পেঁয়াজের চারা রোপণ করতে দেখা যায়। শ্রমিকেরা জানান জমির মালিক এবার ১০ বিঘা জমিতে এই পেঁয়াজের চারা রোপন করছেন। গতবছরও তিনি ১০বিঘা জমিতে পেঁয়াজচাষ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এখন আর কৃষিবিভাগ পেঁয়াজচাষের পরিসংখ্যান রাখেন না। তবে লাভজনক হওয়াতে সুখসাগর পেঁয়াজচাষ প্রতিবছরই বাড়ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: