‘পাট আবার প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে’-প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পাটশিল্প আবারও বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাট খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে বিএনপি সরকার আদমজি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, বস্ত্র খাতে ৩০ বছরে যে অর্জন সাধিত হয়েছে আগামী পাঁচ বছরে পাট খাত সে জায়গা দখল করবে। পাটশিল্প আবারও বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে।
ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন সমিতির আহ্বায়ক রাশেদুল করিম এবং ইআরএফের সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির ভাষণে প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, পাটের সম্ভাবনা বিশাল ও অফুরন্ত। এ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে পাট আইন-২০১৭ পাসসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাটের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।
মির্জা আজম বলেন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রতিবছর লোকসান হয় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে লোকসান হতেই পারে। তবে বিজেএমসির লোকসানের অন্যতম কারণ এ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে আদমজি জুট পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ সে সময়ই বিশ্বব্যাংক ভারতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে ১০টি পাটকল স্থাপন করে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের পাটশিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেসব ষড়যন্ত্র থেকে পাটশিল্পকে পুনরুদ্ধার করার সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।
মির্জা আজম বলেন, শিগগিরই বাংলাদেশে পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজন করা হবে। এই মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পাট দিয়ে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে অংশ নেবে। পাটজাত দ্রব্য দিয়ে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর জন্য একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র খোলা হবে। যেখান থেকে দেশি-বিদেশি ক্রেতারা সুলভ দামে এসব পণ্য কিনতে পারবে।

