বোরো ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণ, বিপাকে কৃষক!

যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুরে বোরো আবাদের ধানে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের সংক্রামণে কয়েক’শ বিঘা জমিতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষক বিপাকে পড়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে ধানের আবাদ করেছে। ধান না হলেও কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবে সেটি নিয়েও দুশ্চিন্তায় অনেকে।

মণিরামপুর কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলায় এবার এক লাখ ৪৫ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্লাস্ট রোগের সংক্রামণে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর, কুলটিয়া ইউনিয়নের কাজিয়াড়া ও আমৃঝুটা বিলে ধানের থোড় (শীষ) শুকিয়ে গেছে।

কাজিয়াড়া গ্রামের ওলিয়র রহমান বলেন, তিনি এনজিও থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লোণ (ঋণ) নিয়ে সাড়ে চার বিঘা জমির ধানের আবাদ করেছেন। ধানে থোড় (শীষ) এসেছে। এমন সময় রোগের আক্রমণে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। থোড় শুকিয়ে যাওয়া ধান হবে না।

তিনি আরও বলেন, ধান বিক্রির টাকা লোণ শোধ করতে চেয়েছিলাম। ধান না হলে কিভাবে লোণ শোধ করবো সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।

সাতগাতি গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমাদের মাঠের বারো আনা ধানের থোড় (শীষ) শুকিয়ে ধানে চিটা ধরেছে। ধান না হলে আমরা মাঠে মারা যাবো।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, কৃষকের ধান রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হলেও কৃষি বিভাগের কাউকে পাওয়া যায় না। তারা কোনো খোঁজখবরও নেয় না।

কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকর করে মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ধানে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট সংক্রামণ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। অনেকে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেনি।

ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষায় ধান ক্ষেতে নাটিভো, ফিলিয়া, ট্রোপার, প্রভিফেন জাতীয় ছত্রাকনাশক ওষুধ দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: