ইউরোপ যাত্রার শুরুতেই বাধাগ্রস্ত রাজশাহীর আম
রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর ব্যাগিং করা আম রফতানি হচ্ছে ইউরোপে। রাজশাহী থেকে সাড়ে তিন হাজার কেজি আম ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ইউরোপে রফতানির জন্য। তবে ‘কোয়ারেন্টাইন’ নিরীক্ষার নামে আম চাষিদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে চাষিরা ১২ জুন সোমবার থেকে আম দেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, কোম্পানি দেরিতে আম নেওয়ায় ও অতিরিক্ত পরিপক্ক হওয়ায় ব্যাগেই পেকেছে অনেক আম। এদিকে কৃষিজাত যেকোনো পণ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানোর আগে রোগজীবাণু, ভাইরাস, পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষা করা হয়। আর এই আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানির জন্য একটি সমিতি রয়েছে। এই সমিতির উপদেষ্টার সঙ্গে গত অক্টোবর মাসে রাজশাহী অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২৮ মে থেকে ক্ষীরসাপাত আম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো আম নেওয়া হয়নি।
রাজশাহীতে আমচাষিদের সংগঠন রাজশাহী অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটি সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজশাহীতে প্রায় ১০০ চাষি ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে আম চাষ করেছেন। এই আমের পরিমাণ হবে এক থেকে দেড় হাজার মেট্রিক টন। বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করা এই আমের গায়ে কোনো দাগ থাকে না। তাছাড়া এ আমে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।
সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক পর আম নেওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু এই কয় দিনে ব্যাগিং করা আম বেশি পেকে গেছে। ফ্রুট ব্যাগিং করা আমে কোনো পোকা থাকে না, কোনো জীবাণুও থাকে না। তবে ঝড়ের সময় একটু-আধটু বাড়ি লেগে আমে দাগ পড়তে পারে। সেই দাগ নিয়ে রফতানিকারকদের খুব একটা আপত্তি না থাকলেও কোয়ারেন্টাইনের লোকজন অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করছেন। এছাড়া গত বছর রফতানির জন্য প্রতি কেজি আম ৮৫ টাকা করে দেওয়া হলেও এবার সেই আমের জন্য দেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা।
তিনি জানান, চাষিরা রফতানির জন্য পাঁচ মেট্রিক টন আম নিয়ে আসেন। কিন্তু এর মধ্য থেকে বেছে বেছে মাত্র দুই মেট্রিক টন আম নেওয়া হয়েছে। এখন বাকি আম নিয়ে চাষিরা কী করবেন? তাই তারা ক্ষুব্ধ। চাষিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা আর এভাবে সোমবার থেকে কোনো আম দেবেন না। কোয়ারেন্টাইনের হয়রানির বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা আম দেওয়া বন্ধ রাখবেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেবদুলাল ঢালী বলেন, এবার বিদেশিদের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি শর্ত দেওয়া হয়েছে। পোকামাকড় ও জীবাণু তো থাকবেই না, আমে ক্ষুদ্র দাগও থাকা যাবে না। যদি এমন দাগ থাকে, তবে আম ফেরত পাঠিয়ে দেবে। এ জন্য এবার অনেক বেছে আম নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘দাগযুক্ত আম পাঠালে এতে বিদেশিরা অসন্তুষ্ট হয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিতে পারে। তখন অন্য দেশ বাজার দখল করবে। আমরা সেটা কোনোভাবেই চাই না।’

