রঙিন বাঁধাকপি চাষে হাসি ফুটেছে ডুমুরিয়ার কৃষকের মুখে

খুলনা প্রতিনিধি :

বেগুনি রঙের বাঁধাকপি চাষে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। যত দূর চোখ যায় শুধু বেগুনি রঙের ছোঁয়া। দেখলেই মন ভরে যায়। আর রঙিন বাঁধাকপিতে নতুন করে স্বপ্ন বুনছে ডুমুরিয়ার কৃষকেরা। নতুন এ জাতের বাঁধাকপি দেখতে ক্ষেতে আসছেন উৎসাহিরা।

ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া এলাকার কয়েকটি মাঠে চাষ হয়েছে বেগুনি রঙের বাঁধাকপি। এ উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষাবাদ হয়েছে এই রঙিন বাঁধাকপি। আর প্রথমবারে ৩ জন কৃষক প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে বেগুনি বাঁধাকপির চাষাবাদ করেছে। কৃষকরা প্রতি কেজি ১৪/১৫ টাকা দরে বিক্রয় করছেন। আগামীতে বেগুনি রঙের বাঁধাকপির চাষ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

শীতকালের সবজিগুলোর মধ্যে বাঁধাকপি অন্যতম। এ এলাকায় সাধারণত গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ রঙের বাঁধাকপির চাষাবাদ হয়ে থাকে। রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে বেগুনিসহ বিভিন্ন রঙের বাঁধাকপির সালাদের দেখা পাওয়া গেলেও এ অঞ্চলে এর দেখা নেই বললেই চলে। তবে নতুন করে কিছু উদ্যোমি কৃষক এ জাতের সবজি চাষাবাদে এগিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ডুমুরিয়ার বরাতিয়া এলাকার নবদ্বীপ মল্লিক, তাপস সরকার এবং মিঠুন সরকার। এমন রঙিন বাঁধাকপির ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে উৎসাহিরা।

স্থানীয় কৃষক মিঠুন সরদার জানান, ৬০ শতাংশ জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে। প্রতিটি কপি কেজি ছাড়িয়ে গেছে। আমার ক্ষেতে প্রায় ১৪ হাজারপিস এ কপি রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে রঙিন বাঁধাকপির বীজ সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি জানান। আরেক কৃষক নবদ্বীপ মল্লিক জানান, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবার রঙিন বাঁধাকপির চাষ করেছি। বেশ সাড়া পেয়েছি। সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে এই কপিতে বেশি দাম। এ সবজির ওজনেও অনেকগুন বেশি। আগামীতে বড় আকারে এ চাষাবাদ করবো।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, এই অঞ্চলে এই প্রথম বেগুনী রঙের বাঁধাকপি উৎপাদিত হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এ জাতের কপির বেশ চাহিদা রয়েছে।

আমরা রাজধানীসহ বড় বড় হোটেল-রেস্টুরেন্টে এ ধরনের রঙিন বাঁধাকপি দেখে থাকি। আর এখন এ অঞ্চলেই দেখা মিলবে।

কৃষকদেরকে আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, নতুন জাতের শাক, সবজি, ফল-মূল উৎপাদনে উৎসাহিতও করি। কিছুটা বাণিজ্যিকভাবে এ মওসুমেই শুরু হয়েছে রঙিন বাঁধাকপির চাষ। আশা করছি আগামীতে ব্যাপক আকারে বেগুনি রঙের বা রঙিন বাঁধাকপির চাষাবাদ হবে।

  •  
  •  
  •  
  •