গরুর দাম ও বিক্রি নিয়ে ফেনীতে শঙ্কায় খামারিরা

নিউজ ডেস্কঃ

জেলায় কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য অনলাইনে পশুর হাট নামে বেশ কয়েকটি আইডি খোলা হলেও তেমন সাড়া পাচ্ছেন না খামারিরা। তারা বলছেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ভয়ে হাটে ক্রেতা কম দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় গরুর দাম ও বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। কোরবানির হাটে পশুর দাম কম হওয়ায় খামারিদের সঙ্গে মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন গ্রামে কোরবানি উপলক্ষে গরু পালন করে থাকেন খামারিরা। এবছর ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকায় এবার গরু পালন ও মোটাতাজাকরণে ঝুঁকছেন নতুন নতুন খামারি। কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর জেলায় খামারগুলোতে কোরবানির জন্য ৮৫ হাজার পশু পালন করা হয়। সেখানে এ বছর খামার সংখ্যার পাশাপাশি পশুর সংখ্যা কমেছে। ৪ হাজার ২শ’ ৩৯টি খামারে ৭২ হাজার ৪শ’ ৪৫টি পশু কোরবানি উপলক্ষে পালন করা হয়েছে।

এদিকে করোনা সংকটের কারণে গো-খাদ্যের দামও বেড়ে গেছে। এতে আরও বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

খামারি জাহেদ, করিম ও বাবলু বলেন, করোনা সংকটের আগে এক বস্তা গমের ভূসির দাম ছিল ১২০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০-১৬০০ টাকায়। শুধু গমের ভুসি নয় খইলসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম ২৫-৩০ শতাংশ বেড়েছে।

 

এসব খামারির মতো জেলার ৬ উপজেলার ৫ পৌরসভা ও ৪৩টি ইউনিয়নে কোরবানি উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করা হয়ে থাকে। এসব পশু বিক্রির আয়ের টাকা দিয়ে খামারিদের সারা বছর সংসার চলে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবারের কোরবানির ঈদের বাজার তেমন ভালো যাবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতকান্দি এলাকার রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী তার বাড়িতে এক বড় খামার করেছেন। তার খামারে ১০টি গরু বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি খামারে গরু পালন করছেন। তার খামারে এবার পিজিয়ান জাতের একটি গরুর ওজন হয়েছে প্রায় ২০ মণ। গরুটির দাম হেঁকেছেন তিনি ৩০ লাখ টাকা। বাকি গরুগুলোর ওজনও প্রায় সাত-আট মণ করে। এবার বেশি আয়ের আশা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তার গরুগুলো বিক্রি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের এক-দুই মাস আগে থেকে ব্যাপারিরা এসে গরুর দর-দাম করে নিয়ে যেত। বাকি গরুগুলো তিনি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করতেন। তবে এবার এখন পর্যন্ত ব্যাপারীদের কোনও খোঁজখবর নেই। এতে বোঝা যাচ্ছে এবার তাকে লোকসান গুণতে হবে।

খামারি শাহিদ ফরিদ জানান, করোনা সংকটের কারণে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে। খামারিদের প্রণোদনা না দিয়ে গোখাদ্যের দাম কমিয়ে দিলে তারা উপকৃত হতেন। করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির হাট বসলেও বাজার খুবই মন্দা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: