৩০ শতাংশ জমির ফসল জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত

নিউজ ডেস্কঃ

জোয়ারের পানিতে বরিশালে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা, আমনের বীজতলা ও পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিন টানা রোদ থাকলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফসল রয়েছে। এর মধ্যে পানিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমির ফসল, যা মোট ফসলের ৩০ দশমিক ৩১ ভাগ। যদিও ক্ষতির পরিমাণ ৫০ ভাগের বেশি হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস জানায়, এ সময়ে কৃষকের সদ্য রোপণ করা আমন ধান, আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজি, যেমন পেপে, কাঁচকলা, কাঁকরোল, লাউ, পুঁইশাক ও বরবটিসহ অন্যান্য ফসল রয়েছে।

মুলাদী উপজেলা কৃষি সমিতির সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, তার সমিতির আওতাধীন চাষীদের সবজির খেতের চার ভাগের তিন ভাগ পানিতে ডুবে গেছে। তিনি পাঁচ কাঠা জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা ও ডাঁটাশাক চাষ করেছিলেন। এর অধিকাংশ গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে।

মুলাদী উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, মুলাদীতে ১৩৫ হেক্টর জমির সবজির মধ্যে ১১০ হেক্টরের ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া ৬৬০ হেক্টর বীজতলার মধ্যে ২৬০ হেক্টর, ১৪ হাজার হেক্টর আমনের মধ্যে ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একইভাবে হিজলায় টানা চারদিন জোয়ারের পানিতে ডুবে লাউ, পেঁপে, লালশাক, ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খালেদ বিন আনাম।

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশালে এখন মাঠে ফসলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে আউশ ধান। বিভাগের ৯০ হাজার ৯৯২ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া আউশ ধানের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায় ২৭ হাজার ৪২৯ হেক্টর জমির ধান। ২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমিতে সদ্য আমন রোপণ এবং আমনের বীজতলা করা হয়েছিল। তার মধ্যে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ৭৯ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমির ধান ও আমনের বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এছাড়া ২ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমির পানের বরজের মধ্যে ২৯২ হেক্টর, ৯ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির মধ্যে ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির শাকসবজি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন জানান, সবেমাত্র জোয়ারের পানি নামতে শুরু করেছে। মাঠ পর্যায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি তথ্য পেতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে প্রাথমিকভাবে বিভাগের ৩০ ভাগ ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে আক্রান্ত হয়ে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। টানা রোদ থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো কমতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: