জুঁই ফুলের নির্যাস তৈরির মৌসুম চলছে মিসরে

নিউজ ডেস্কঃ

মিসরের ঘারবিয়া অঞ্চলকে বলা যায় দেশটির জুঁই ফুল উৎপাদনের কেন্দ্রভূমি। কারণ সুগন্ধি তৈরিতে সারা বিশ্বে যে পরিমাণ জুঁই ফুলের নির্যাস সরবরাহ করা হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদন হয় এখানেই। প্রতি বছর এ ফুল সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয় জুনের দিকে, শেষ হয় নভেম্বরে। এ সময় প্রতিদিন মধ্যরাতে শুরু হয় বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ, চলে ভোর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত। খবর এএফপি।

এখন জুঁই ফুলের পূর্ণ মৌসুম। তাই মিসরের রাজধানী কায়রোর প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে শুব্রা বেলৌলা গ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল সংগ্রহকারী শ্রমিকরা। এ গ্রামের এমান মেহান্না মধ্যরাত হলেই তার বেতের ঝুড়ি নিয়ে হাজির হন বাগানে। মেহান্না বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই জুঁই ফুল সংগ্রহের কাজ করে আসছি। এটি মোটেই কোনো সহজ কাজ নয়। তবে কোনো পরিশ্রমী কর্মী একদিনে পাঁচ কেজি পর্যন্ত ফুল সংগ্রহ করতে পারেন। রাতে কাজ করার অন্যতম কারণ হলো তখন তাপমাত্রা কম থাকে। এছাড়া মূলত রাতেই এ ফুল পূর্ণমাত্রায় প্রস্ফুটিত হয়।

মেহান্না আরো বলেন, সম্পূর্ণ ফুটেছে শুধু এমন ফুল তোলার জন্য খুবই মনোযোগী হতে হয়। যে ফুল ফোটেনি, সেগুলো আমরা পরের দিনের জন্য রেখে দিই।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এসেনশিয়াল অয়েলস অ্যান্ড অ্যারোমা ট্রেডার্স (আইএফইএটি) জানিয়েছে, সুগন্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জুঁই ফুলের নির্যাস উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে মিসর ও ভারত। এ দুই দেশ থেকেই সরবরাহ করা হয় প্রায়

৯৫ শতাংশ নির্যাস। মিসরে প্রতি বছর জুঁই ফুলের ব্যবসার মাধ্যমে আয় হয় ৬৫ লাখ ডলার। আর খাতটির মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। মিসরের ৯০ শতাংশ জুঁই ফুলের বাগানের অবস্থান ঘারবিয়ায়। নীল নদের পানি ও খনিজ পদার্থের কারণে এ অঞ্চলে ফুলটির উৎপাদন হয় দারুণ।

সকালে বাগান থেকে সংগ্রহের পর ফুলগুলো প্রক্রিয়াজাতের জন্য ট্রাকে কিংবা ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ অঞ্চলে ফুল থেকে নির্যাস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দ্য ফখরি এসেনশিয়াল অয়েলস ফ্যাক্টরি। প্রথমেই কারখানার ফুলগুলো পিষে পেস্ট তৈরি করা হয়। এরপর সেই পেস্ট থেকে পাতনের মাধ্যমে বের করা আনা হয় মূল্যবান সুগন্ধি নির্যাস।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: