‘লতিরাজ কচু’র চাষ বাড়ছে
নিউজ ডেস্কঃ
পানি কচুর জনপদ হিসেবে পরিচিত আনোয়ারায় ‘লতিরাজ কচু’র চাষ বাড়ছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে অপেক্ষাকৃত লাভ বেশি হওয়ায় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই কচুর চাষ। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কচুতে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই কম হওয়ায় তেমন কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয় না। ভালো ফলন ও বেশি লাভ পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
যে সমস্ত কচু স্থবির পানিতে চাষ করা যায় তাকে বলে পানি কচু। আনোয়ারার পানির কচুর সুনাম রয়েছে সারাদেশে। এ অঞ্চলে আগে থেকে প্রধানত নারিকেল কচু, জাত কচু, বাঁশ কচুর চাষ হতো। লতিরাজ জাতের কচুর সঙ্গে সেভাবে পরিচিত ছিলেন না কৃষক। একসময় লতিরাজ কচু প্রধানত শাক খাওয়ার জন্য চাষ হতো। এ কচুর পাতা, কাণ্ড, লতি সবই সুস্বাদু। তাছাড়া লতির জন্য এটি সেরা। এর লতি লম্বায় ৯০-১০০ সেমি. এবং দেখতে সামান্য চেপ্টা ও সবুজ হয়ে থাকে। লতি রান্না করলে সমানভাবে সিদ্ধ এবং গলা চুলকানি মুক্ত হয়। প্রচুর ভিটামিন-এ এবং লৌহ থাকাতে এর ঔষধি গুণও রয়েছে। স্বাদে, গুণে ও ফলনে অনন্য হওয়ায় লতিরাজের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান জানান, সারা দেশ থেকে সংগৃহীত ১০০টি পানিকচুর জাত থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লতিরাজ জাতটি ১৯৯৮ সালে অনুমোদিত হয়। সাধারণত এ জাতীয় কচুতে বছরে হেক্টরপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টন লতি এবং প্রায় ১৮ থেকে ২২ টন কাণ্ড উৎপন্ন হয়। আনোয়ারার ডুমুরিয়া, কেখাইন, চাতরী, হাইলধর, বারখাইন, বরুমচড়া, পরৈকোড়া, জুঁইদণ্ডী, বটতলী, বারশত, বৈরাগ, রায়পুর ও আনোয়ারা সদর এলাকায় এবার কমবেশি কচু চাষ হয়েছে। উপজেলায় সবমিলিয়ে ১৫০ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডুমুরিয়া গ্রামের কৃষক নুরুন্নবী জানান, লতিরাজ কচু এখানকার অনেকের কাছেই প্রিয় সবজি হয়ে উঠেছে। এখানকার কচুর খ্যাতি রয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটে-বাজারে। তাছাড়া এখানকার কচু আবর আমিরাত, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকার মত দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
আরেক চাষী আবুল হোসেন জানান, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি কচু ২৫ থেকে ৩০ টাকা করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায়। বাজার মূল্যেও কৃষকেরা খুশি। ধান বা অন্য ফসলে যেখানে কৃষকেরা খরচ তুলে আনতে পারছে না, সেখানে লতিরাজ কচু যেন রাজকীয় ব্যবসায় সুযোগ করে দিয়েছে।

