বন্যার পর তীব্র রোদে নষ্ট হচ্ছে আমন ক্ষেত

নিউজ ডেস্কঃ

বন্যা আর তীব্র খরতাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পীরগাছার কৃষকরা। পানিতে নিমজ্জিত আমন ধান তীব্র রোদের খরতাপে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোদের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। অনেক জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান কৃষকরা। ফলে আমন উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছায় কয়েক দফা বন্যার পর গত সপ্তাহে দু’দিনে স্মরণকালের ভারি বর্ষণের ফলে উপজেলার দুই হাজারের বেশি আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েন লক্ষাধিক পরিবার। ভেসে যায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার মাছ। সে পানি নামতে না নামতে গত ক’দিন থেকে প্রচণ্ড রোদে পুড়ছে মাঠ-ঘাট। তীব্র রোদের কারণে জলাবদ্ধতায় আমন ধান ক্ষেতগুলোতে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। অনেক জমির পানি গরম হয়ে ধানগাছগুলো সিদ্ধ হয়ে পচে নষ্ট হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যায় ১৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমির আমন এবং ১২৫ হেক্টর জমির শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের হিসেবে ৯টি ইউনিয়নে ৪৮৪টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যায়। এতে প্রায় ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু কৃষকরা জানান, পানিতে নিমজ্জিত আমন ধান ক্ষেত ও পুকুরের সংখ্যা আরও বেশি।

এদিকে বন্যার পর তীব্র রোদে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমন ধানক্ষেতগুলো। পানিতে ডুবে থাকার কারণে রোদের দাবদহে পানি গরম হয়ে সিদ্ধ হয়ে কালো হয়ে যাচ্ছে ধানগাছগুলো, যা শক্তি হারিয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার অনন্তরাম মাছুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল মমিন শেখ (৫০) বলেন, ‘হামার সউগ শ্যাস, বানোত ধানো গ্যালো, মাছও গ্যালো, এ্যাখন হামরা কি খামো।’ আরেক কৃষক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকের জমিতে ৩/৪ দিন পানিতে নিমজ্জিত ছিল। ফলে এখন কড়া রোদে পানি গরম হয়ে ধানগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, ‘জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করতে হবে এবং জেগে ওঠা জমিতে সামান্য সার ও পরিষ্কার পানি স্প্রে করতে হবে। আমরা মাঠে ঘুরে ঘুরে কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

 

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: