বসন্তের বার্তা নিয়ে গাছে গাছে আমের মুকুল

মিজানুর রহমান, তানোর প্রতিনিধি:
শীত শেষে প্রকৃতিতে চলে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। চারদিকে ফুল আর নতুন পাতায় প্রকৃতি যখন ব্যাস্ত ঠিক তখনই রাজশাহীর তানোর উপজেলাসহ পুরো উত্তরাঞ্চলজুড়েই আমের গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আমের মুকুলের সেই মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে বাতাস।

গংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে থেকেই গাছে মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে এই অঞ্চলে। সময়ের ব্যবধানে এখন তা আরো বাড়ছে। এ বছর গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। আমচাষি এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময়মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হবে।

উল্লেখ্য; উত্তরাঞ্চরের বিভাগীয় শহর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং নাটোরের প্রায় সব এলাকাতেই রয়েছে আমবাগান। তবে রাজশাহীর ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই আম বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। তবে গড়ে ওঠা নতুন আম বাগানগুলোর প্রায়ই বনেদি জাতের। বিশেষ করে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত ও আশ্বিনা জাতেরই গাছ বেশি হচ্ছে।

উপজেলার পৌর এলাকার চাপড়া গ্রামের আম চাষি মাওলানা মোসলেম উদ্দিন জানান , এ বছরের আবহাওয়া আমের জন্য অনুকূলে রয়েছে। গত বছরের চেয়ে টানা শীত ও কুয়াশার তীব্রতা এ বছর অনেক কম। গতবারের মতো মৌসুমের শুরুতে শিলাবৃষ্টিও হয়নি। এরই মধ্যে অনেক গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

একই এলাকার অপর আমচাষি সাইদুর রহমান জানান, আমের জন্য এখন আর অফ ইয়ার বা অন ইয়ার নেই। বছর জুড়ে গাছের পরিচর্যা করার কারণে এখন প্রতি বছরই আমের ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই তারা পুরো গাছ সাইপারম্যাক্সিন ও কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়েছেন। এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষকজাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যদি সঠিক সময়ে হপার বা শোষক পোকা দমন করা না যায় তাহলে আমের ফলন কমে যেত বলে জানান এই আমচাষি।

এনিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। তবে ছত্রাকজনিত রোগেও আমের মুকুল-ফুল-গুটি আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজন। আর ঠিক ঠাক পরিচর্যা করলে এবছর উপজেলার আম চাষিরা লাভবান হবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেই এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, ধান-চাল বা অন্য ফসলের মতো আম উৎপাদনের কোনো লক্ষ্যমাত্রা কৃষি অধিদফতরের কাছে থাকে না। তবে, আগামী বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে রাজশাহীর অঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই লাখ টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা করা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: