ব্রকলি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কুড়িগ্রামের চাষিরা

নিউজ ডেস্কঃ

বর্তমানে বাজারে ব্রকলির যেমন চাহিদা রয়েছে তেমনি বাজারে দামও পাওয়া যায় ভালো। আর সেই কারণে এখন কুড়িগ্রামের কৃষকরা নতুন এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি ব্রকলি চাষে হয়ে উঠেছেন আগ্রহী।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামের আবহাওয়া ও মাটিতে ব্রকলি চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প শ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়ার কারণে নতুন এ সবজি চাষে বেশ আগ্রহী জেলার কৃষকরা।

এ জেলার প্রথম ব্রকলি চাষি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়া আতাউর রহমান (৫৫)। ২০১৯ সালে শখের বশে ঢাকা থেকে ব্রকলির জাপানী বীজ এনে কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গার বড়ভিটায় ১২ হাজার টাকায় জমি বর্গা নিয়ে এক বিঘা জমিতে ব্রকলি চাষ করেন তিনি। ওইবছর এক বিঘা জমির ব্রকলি চাষে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি বিক্রি করেন ৬০ হাজার টাকায়। নতুন এ সবজি চাষে সফলতা পাওয়ায় এবং অল্প সময়ে লাভের মুখ দেখায় আগ্রহ আরো বেড়ে যায় তার।

তিনি চলতি বছর তিন বিঘা জমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে তার ৩০ হাজার টাকা। নিজে বীজ উৎপাদন করায় এবং চাষ পদ্ধতি রপ্ত হওয়ায় খরচ কমেছে অনেকটা। আগে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হতো আর এখন স্থানীয়ভাবে বীজ ও চারা তৈরি করে অন্যদের কাছে বিক্রি করছেন সাবেক এ সেনাকর্মকর্তা। এতেও বেশ লাভ করছেন তিনি। তার এ জমিতে তিনজন শ্রমিক কাজ করছেন। নিজেও সময় দিচ্ছেন। আর বাজারজাত করছেন জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়েও। গতবছর এক একটি ব্রকলি বিক্রি করেছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে এবছর দাম কিছুটা কমে ২০ টাকা করে বিক্রি করছেন।

কুড়িগ্রামে তার কাছ থেকে বীজ ও চারা নিয়ে অরো পাঁচজন ব্রকলি চাষ করেছেন। অল্প সময়ে ভাল ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় অপার সম্ভাবনা দেখছেন তার মতো অনেক কৃষক। এক বিঘা জমিতে প্রথম ব্রকলি চাষ শুরু হলেও এ বছর ৫০ হেক্টর জমিতে ব্রকলি চাষ হচ্ছে আতাউরের।

এবছর জেলায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন রকমের সবজি এবং শাক চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর জমিতে ব্রকলি চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে নতুন এ সবজি চাষে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, উৎসাহ এবং প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান প্রধান।

তিনি বলেন, ‘বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জেলার কৃষিকে স্বাবলম্বী করতে নতুন নতুন ফসল উৎপাদনের দিকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্য উদ্বৃত্ত্ব এবং কৃষিনির্ভর এ জেলার কৃষককের নতুন এ সবজি চাষের মাধ্যমে কৃষিতে স্বনির্ভরতা অজর্নের আশা করছি।’

সম্পূর্ণ জৈব সার প্রয়োগ করে ব্রকলি যেমন চাষ করা যায়, তেমনি এ ফসলে রোগবালাই অত্যন্ত কম বলে জানান ভোগডাঙ্গার জগমোহনের জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি দুই বিঘা জমিতে এবার ব্রকলি চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। প্রতিদিন তার এ ব্রকলি ক্ষেত দেখতে আসছেন অনেকে এবং আকৃষ্ট হয় সবুজ এই ব্রকলিতে।

পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, এ এবং আয়রণ রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়ামও থাকে। এটি যেমন ত্বকের জন্য ভালো তেমনি কোলেস্টরল কমাতেও সাহায্য করে। আমেরিকান ক্যানসার রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তালিকায় ক্যান্সার প্রতিরোধী দশম খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ব্রকলি।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: