সোনালী ধানেও কৃষকের হাসি ম্লান!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মাঠে বৈশাখী হাওয়ায় দুলছে সোনালী ধানের খেত। নানা প্রতিকূল আবহাওয়া পেরিয়ে বোরো চাষ এবার ভালো হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। ধানের দাম কম হওয়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত খরচ উঠছে না। কৃষকের মুখের হাসি যেন ম্লান হয়ে গেছে।

গত বছরে বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য দাম পায়নি কৃষক। এ বছর ধানের দাম পাবেন এ আশায় ঋণ করেও বোরো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে কৃষক। ধানের দাম শেষ পর্যন্ত কী হবে এই শঙ্কায় কৃষকের মাথায় বাজ পড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সোনালী ধনের খেতগুলো উঁকি মেরে দেখছে। সোনালী রংয়ের ধানগুলো রোদে ঝিকমিক করে জ্বলছে। কোথাও কোথাও বিআর-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।
কৃষকরা জানান, এ বছর তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সারের দাম বৃদ্ধিসহ এ বছর প্রতিকূল আবহাওয়ায় ধান খেতগুলোতে পোকা মাকড় ও রোগব্যাধি বেশি হওয়ার কারণে ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে অনেক গুণ। এ ছাড়াও এ বছর দফায় দফায় খরার কারণে অনেক কৃষক বোরোখেতে অতিরিক্ত সেচ দিয়েছেন। এতে তাদের বাড়তি খরচ হয়েছে।

উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন ও জামাত আলী জানান, মজুরী বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণেও ধানের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুণছেন।

কৃষকরা আরও জানান, এ বছর তাদের উৎপাদন খরচ হয়েছে মণপ্রতি ৫’শ টাকারও বেশি। স্থানীয় বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪’শ টাকা দরে। এতে করে প্রতি মণ ধানে ১’শ করে টাকা লোকসান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সাঈদ মো. ফজলে এলাহী বলেন, এ বছর উপজেলায় ১৪ হাজার ৬’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এ বছর বোরো ধানের উৎপাদন আশানুরুপ হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: