চরফ্যাশনে গ্রামে গ্রামে তরমুজ কাটার উৎসব!

ভোলা সংবাদদাতা:
চৈত্রের তাপদহে গরম হয়ে উঠছে আবহাওয়া। গরমে লাগছে পানির পিপাসা। আর এই পিপাসা নিবারণে মানুষ নানা ধরনের পানীয় রসালো ফল খেয়ে থাকে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে পুষ্টিগুণে ভরা রসালো ফল তরমুজ।

চরফ্যাশনের গ্রামে গ্রামে চলছে তরমুজ কাটার উৎসব। দিনমজুর, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই তরমুজ কাটার উৎসবে মেতে উঠেছে। তরমুজের বাম্পার ফলনে খেটে খাওয়া তরমুজ চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। চাঙ্গা করে তুলেছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে। যার সুফল ভোগ করছে সাধারণ কৃষক পরিবার। চরফ্যাশন সদরসহ ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পাইকাররা তরমুজ কিনতে গ্রামের কৃষকের ক্ষেতে ক্ষেতে ছুটছে।

উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চাষী আ. লতিফ হাওলাদার জানান, এ বছর তিনি ৫ একর জমিতে সুপ্রিম সিডের গ্লারি ও গ্লোরি জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। এতে তার ক্ষেতে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এক একটি তরমুজের ওজন সর্বনিম্ম ৮কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। বেশ কয়েকজন পাইকার প্রতি একর জমির তরমুজ ১ লাখ টাকা দাম হাক্কাচ্ছেন। তার খেয়াল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রতি একর বিক্রি করবেন। এতে সব তরমুজ বিক্রি হলে তিনি ৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

একই এলাকার তরমুজ চাষী কামরুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ৬ একর জমিতে বিগ ড্রাগন-২ এবং গ্লোরি জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। তার ক্ষেতে আশানুরূপ ফলনও হয়েছে। এক একটি তরমুজের ওজন সর্বনিম্ম ৮ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। পাইকাররা প্রতি একর জমির তরমুজ ১ লাখ টাকা বলছেন। তার আশা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রতি একর বিক্রি করতে পারলে তার ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা লাভ হবে।

মাঝের চর গ্রামের শাহ আলম মৃধা জানান, বিগত ৭/৮ বছর ধরে তিনি গ্লোরি জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। এ বছর তিনি ২ একর জমিতে একই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। তার ক্ষেতে আশানুরূপ ফলন হলেও ক্ষেত রাস্তা সংলগ্নে না হওয়ায় পরিবহন খরচ বেশির কারণে পাইকররা দাম কম বলছেন। তাই তিনি আশানুরূপ মূল্য পাওয়া নিয়ে চিন্তিত আছেন।

সার, কীটনাশকের সহজলভ্যতা এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার ওসমানগঞ্জ, নীল কমল, নুরাবাদ এবং আবু বকরপুর ইউনিয়নেও তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনতোষ সিকদার জানান, চরফ্যাশনে তরমুজ চাষে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে কৃষকরা এখন তরমুজ চাষে ঝুঁকছে। গত বছর এখানে ১৫ হাজার একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর তা ২৫ হাজার একরে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেতে ঠিকা বিক্রি করলেও এখানে সাড়ে ৪শ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি সম্ভব। তরমুজের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ক্ষেতে বসে প্রতাশিত মূল্য পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে কৃষকরা তরমুজ চাষকে ভাগ্যবদলের উপলক্ষ্য হিসেবে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: