সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী কৃষকের রংপুরে দেড়শ কোটি টাকার হাড়িভাঙ্গা
সনজিৎ কুমার মহন্ত:
হাড়িভাঙ্গা আমের কারণে আর মিঠাপুকুর তথা রংপুর সারাবিশ্বে পরিচিতি লাভ করতে চলেছে। হাড়িভাঙ্গা আমের মিষ্টতা জয় করছে বিশ্ব। অথচ এই আম সংরক্ষণে এই অঞ্চলে কোন ব্যবস্থা না থাকায় আম চাষীরা বিপাকে পড়েছে। এমন অভিযোগ হাড়িভাঙ্গা আমের উদ্ভাবক ও সম্প্রসারক আলহাজ্ব আব্দুস সালামের। হাড়িভাঙ্গার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরষ্কার পাওয়া আব্দুস সালাম আরো বলেন, হাড়িভাঙ্গা আম নিয়ে আমাদের আরো বেশী সচেতন এবং উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এই আম চাষ করে এখন অনেকে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারছেন। অনেকে হাড়িভাঙ্গার বাগান করে ভাগ্যের চাকা ঘুড়িয়েছেন। তাই এই আম চাষে আরো বেশী লোককে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে দেশের বেকার সমস্যা যেমন দূর হবে তেমনি এই আম রপ্তানি করেও বৈদেশিক মূদ্রাও অর্জন করা সম্ভব। চাকুরি জীবনের মেয়াদ থাকার পরও সরকারি চাকুরি ছেড়ে এই হাড়িভাঙ্গার সম্প্রসারনে কাজ করা নিবেদিত মানুষটি এখনও বিভিন্ন স্থানে হাড়িভাঙ্গার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেক আম চাষী। এদিকে, চলতি মৌসুমে রংপুরে শুধুমাত্র হাড়িভাঙ্গা আমই বিক্রি হবে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। তবে আম সংরক্ষণসহ নানা জটিলতায় দর পতনের আশংকাও করছেন তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে হাঁড়িভাঙ্গর। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৯৫০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলাতেই ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩ হাজার ৮টি হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আমের চাষ। চাষিরা আগ্রহ নিয়ে আম চাষে এগিয়ে আসছেন। শিক্ষিত বেকার যুবকরাও ঝুঁকে পড়েছেন হাড়িভাঙ্গা আম চাষে। বাগান মালিকরা বলছেন, রংপুরে এবার যে আমের ফলন হয়েছে, তা সারাদেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। হাড়িভাঙ্গা আমের উদ্ভাবক আব্দুস সালাম সরকার চলতি বছর ১২ একর জমিতে আম চাষ করেছেন । ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি হতে পারে বলেও প্রত্যাশা তার। মৌসুমের শুরুতে এ আম প্রতি কেজি ৫০ টাকা ও শেষের দিকে ১শ ৫০ টাকা থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
এদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দিনে রংপুরের আম সারাদেশের চাহিদা মিটিয়ে আরো বেশি করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। তবে হাড়িভাঙ্গা আম চাষীরা বলেন, যেভাবে এই আমের সম্প্রসারণ ঘটছে তাতে এই অঞ্চলে সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণের বিশেষ ব্যবস্থা না করলে আম চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। আম কেন্দ্রীক শিল্প স্থাপনেরও দাবী জানান চাষীরা।

