হবিগঞ্জে কাঁঠালের বাম্পার ফলনে উৎসব আমেজ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জ্যৈষ্ঠ শেষ হয়ে আষাঢ়ও বিদায়ের পথে। চারদিকে পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণ। হাটবাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এ ফলটি। পাহাড় আর বনাঞ্চল ও হাওর অধ্যুষিত হবিগঞ্জ জেলায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে ফলের রাজা কাঁঠালের।
কাঁঠালের ভাল ফলনে পাহাড়িদের চোখে খুশির ঝিলিক। কেনা-বেচাকে ঘিরে বইছে উৎসব আমেজ। পাহাড়ি টিলা আর সমতল থেকে কাঁঠাল আসছে পাইকারি বাজারে। চলছে কাঁঠাল বেচা-কেনার ধুম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন কাঁঠাল বাজারে। এখানের পাহাড়ে উৎপাদিত কাঁঠাল কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় সৌদিআবরসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও রফতানি হচ্ছে।
হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে অনেকগুলো কাঁঠালের বাগান। শুধু কি তাই বাড়ির আঙ্গিনা আর রাস্তার পাশেও দেখা যায় কাঁঠাল গাছের ছড়াছড়ি। জেলার নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার কাঁঠাল বাজারে আসছে।
হবিগঞ্জের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার বাহুবল উপজেলার মুছাই ও চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া। এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি আড়ত। আড়তে প্রতিটি কাঁঠাল ৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়। পাইকাররা এ কাঁঠাল মুছাই থেকে ট্রাক ভর্তি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। আর এর মধ্য থেকেই কিছু কাঁঠাল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় আড়ৎদাররা।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর হবিগঞ্জে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৯২৮৯ হাজার মেট্রিক টন।
মুছাইর ফলের আড়ত এর মালিক আজিজুর রহমান জানান, এ বছর কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে। দামও ভাল। চুনারুঘাটের জাম্বুরাছড়ার বাগান মালিক আব্দুস শহীদ, নবীগঞ্জের দিনারপুরের বাবুল মিয়া, বাহুবলের রশিদপুরের রুপময় চাকমা জানান, বাগানে সহযোগী ফসল হিসেবে তারা কাঁঠাল উৎপাদন করছেন। তবে কাঁঠাল উৎপাদনে আলাদা কোনো যতœ নিতে হয় না বলে উৎপাদন খরচও কম।
হবিগঞ্জ শহরের ক্রেতা সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বিষমুক্ত ভাল কাঁঠাল কিনতে মুছাই গিয়েছিলেন। তিনি ৫০০ টাকা দিয়ে ৫টি কাঁঠাল ক্রয় করে এনেছেন। নজরুলের মতো প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা মুছাই ও চন্ডিছড়ার বাজারে কাঁঠাল কিনতে ছুটে যাচ্ছেন।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বশির উদ্দিন সরকার জানান, কাঁঠাল অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় সরকারিভাবে এর ফলন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর। কাঁঠাল উৎপাদন করলে একই সাথে ফসল এবং কাঠ পাওয়া যায়। কাঁঠাল গাছের পাতা থেকে শুরু করে কাঁঠালের প্রতিটি অংশ ব্যবহার করা যায় বলে অন্যান্য ফলের তুলনায় এটি লাভজনক। এ ছাড়াও তেমন যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। একটি গাছ বহু বছর পর্যন্ত ফলন দেয়। তবে বন্যা মুক্ত এলাকায় কাঁঠালের বাগান করা উচিত। কারণ দীর্ঘদিন এই গাছ পানি সহ্য করতে পারে না।
হবিগঞ্জের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আম-কাঁঠালের মৌসুমে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আম-কাঁঠাল পাঠানো। এই রেওয়াজ এখনও চলে আসছে। তবে যাদের সামর্থ্য বেশি তারা এর সাথে অন্যান্য ফলও যুক্ত করেন। হবিগঞ্জের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। হবিগঞ্জের কাঁঠাল তুলনামূলকভাবে মিষ্টি ও সু-স্বাদু।

