রফতানির আশায় স্থানীয় বাজারে বিক্রি বন্ধ

নিউজ ডেস্কঃ

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে বন্ধ রয়েছে বিদেশে কাঁকড়া রফতানি। তার পরও উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন খুলনার কাঁকড়াচাষীরা। কিন্তু যথাযথ দাম না পাওয়ার শঙ্কায় এসব কাঁকড়া স্থানীয় বাজারে তুলছেন না তারা। তাই রফতানির আশায় আপাতত স্থানীয় বাজারে কাঁকড়া বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

কাঁকড়াচাষীরা বলছেন, দ্রুতই কাঁকড়া রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বিক্রি শুরু হবে। এতে দীর্ঘদিনের লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা চাষীদের।

খুলনার পাইকগাছার কাঁকড়া ব্যবসায়ী মো. সালাহ উদ্দিন লিটন বলেন, কাঁকড়া ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গতকাল ঢাকায় একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাঁকড়া রফতানি শুরু করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কাঁকড়া রফতানি না হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারেও চাষীরা কাঁকড়া তুলছেন না। ফলে কাঁকড়ার কেনাবেচা একদমই বন্ধ রয়েছে। তবে চাষীরা কম দামে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করে ঘেরে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঁকড়া রফতানি শুরুর আশায় বুক বেঁধে চাষীরা ঈদের আগে থেকেই উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, কাঁকড়া রফতানি বন্ধের আগে বিভিন্ন গ্রেডের কাঁকড়া ৩০০ থেকে শুরু ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এখন বাজারে কোনো ধরনের কাঁকড়াই উঠছে না।

পাইকগাছা কাঁকড়া ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সরকার বলেন, চীননির্ভর কাঁকড়া ব্যবসা বন্ধের কারণে খুলনা তথা সুন্দরবন অঞ্চলের কাঁকড়া ব্যবসায়ীরা সংকটে রয়েছেন। এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারেও কাঁকড়া তুলছেন না ব্যবসায়ীরা। পাইকগাছার কাঁকড়া ডিপোগুলোও বন্ধ রয়েছে। তবে কাঁকড়ার রফতানি সামনের মাস থেকে শুরু হতে পারে—এ প্রত্যাশায় চাষীরা উৎপাদন বাড়িয়েছেন।

পাইকগাছা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার ঘোষ জানান, রফতানি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে বকেয়া অর্থও ব্যবসায়ীরা না পাওয়ায় সংকট বেশি ঘনীভূত হয়েছে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা বকেয়া পরিশোধ করলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কাঁকড়াচাষীরা নগদ কিছু টাকা পেতেন। বকেয়া আটকে থাকার পরও চাষীরা স্থানীয়ভাবে কাঁকড়া কম দামে পেয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখছেন। এ কারণে কাঁকড়া ব্যবসায় ধসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে। এখন কাঁকড়া রফতানি শুরু হলেই চাষী ও ব্যবসায়ীরা চাঙ্গা হয়ে উঠবেন।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, খুলনার ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর এ এলাকা থেকে ৬ হাজার ৯৮৯ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছর সাত হাজার টন কাঁকড়া উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত কাঁকড়া চাষ সংকটে পড়ে। আর তাই অর্থবছর শেষে উৎপাদন হয় ৬ হাজার ২৫০ টন।

তিনি বলেন, খুলনার কয়রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ২৪২ টন, বটিয়াঘাটায় ২৭ হেক্টর জমিতে ৪৫ টন, পাইকগাছায় ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৪২৫ টন, রূপসায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ৪৮ টন, দাকোপে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টরে ২ হাজার ২৪৭ দশমিক ৫০ টন, ডুমুরিয়ায় ৬ হাজার ৮০৪ দশমিক ৪৮ হেক্টরে ২৪২ দশমিক ৫০ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়।

তিনি বলেন, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে কাঁকড়ার বাজার। অস্ট্রেলিয়ায় নরম খোসার কাঁকড়া আর অন্য দেশগুলোয় স্বাভাবিক কাঁকড়া রফতানি হয়। নতুন অর্থবছরে এসে কাঁকড়াচাষীরা নতুনভাবে উৎপাদনে নেমেছেন। বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তিত অবস্থায় কাঁকড়া রফতানি শুরু হবে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই চাষীরা উৎপাদন জোরদার করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: